জাতীয় সংসদে কোন দল কয়টি নারী আসন পাবে

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের ৩৬টি পাবে বিএনপি জোট। জামায়াত-এনসিপির জোট পাবে ১৩টি আসন। যদি স্বতন্ত্র সাত এমপি জোটবদ্ধ হন,তবে তারা একটি আসন পাবেন। জোটবদ্ধ না হলে তাদের প্রাপ্য আসনটি সর্বাধিক নারী আসন পাওয়া বিএনপি পাবে।

২০০৪ সালের জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী,প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি নারী আসন বণ্টন করা হবে। চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনে ফলাফল স্থগিত থাকায় এবং প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় সংসদে বর্তমান আসন সংখ্যা ২৯৭।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুটি আসন থেকে জয়ী হয়ে বগুড়া-৬ ছেড়ে ঢাকা-১৭ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এতে বিএনপির এমপি সংখ্যা কমে হয়েছে ২০৮। তবে নারী এমপির আসন বণ্টনে বগুড়া-৬ আসনকেও গণনা করা হবে। আইনের ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সদস্য একাধিক সাধারণ আসন থেকে নির্বাচিত হলে, তিনি যত সংখ্যক আসন থেকে নির্বাচিত হবেন, তত আসনই গণনা করতে হবে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ এবং দলটির জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। বিএনপি জোটের মোট আসন ২১২। জামায়াতে ইসলামী ৬৮, দলটির জোট শরিক এনসিপি ছয়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুই এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। জামায়াত জোটের আসন সংখ্যা ৭৭। ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন।

নারী এমপির নির্বাচন যেভাবে

আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য এমপিদের দল বা জোটওয়ারি তালিকা করবে। স্বতন্ত্র এমপিদের কেউ কোনো দলে যোগ দিলে, তালিকায় তাঁর নাম সেই দলের এমপি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট অন্য দল বা জোটের সঙ্গে জোট করতে পারবে। স্বতন্ত্র এমপিরা কোনো দলে যোগ না দিয়ে নিজেরা মিলেও জোট করতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী,দলীয় এবং স্বতন্ত্র এমপিরা কে কার সঙ্গে জোট করছেন,তা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ২১ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ হিসাবে ১৫ মার্চের মধ্যে দল ও এমপিদের নিজ নিজ অবস্থান জানাতে হবে। এ সময়ের মধ্যে স্বতন্ত্র এমপিরা কোনো দলে যোগ না দিলে বা নিজেরা জোটবদ্ধ না হলে, তাদের এক জোট হয়েছে বলে গণ্য করবে নির্বাচন কমিশন। এ তালিকা নারী আসনের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আর রদবদল করা যাবে না।

কীভাবে নারী আসন বণ্টন

আইন অনুযায়ী,সংসদের মোট আসন সংখ্যা দিয়ে নারী আসনের সংখ্যাকে ভাগ করা হবে। অর্থাৎ ৫০-কে ভাগ করা হবে ২৯৭ দিয়ে। যে দল বা জোট যত আসন পেয়েছে, সেই সংখ্যা দিয়ে ভাগফলকে গুণ করা হবে। প্রাপ্ত গুণফলই হবে রাজনৈতিক দল ও জোটের নারী এমপির সংখ্যা।

বিএনপি জোটের আসন সংখ্যা ২১২। তারা ৩৫ দশমিক ৬৯টি আসন পাবে। জামায়াত-এনসিপির জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। তবে এনসিপি নারী আসনের নির্বাচনে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত ও খেলাফত মজলিস সঙ্গে থাকলে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যা হবে ৭১। এ হিসাবে জামায়াত জোট ১১ দশমিক ৯৫টি নারী আসন পাবে। এনসিপি পাবে ১ দশমিক ০১টি আসন।

কোনো দল বা জোটের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা দশমিক ৫-এর চেয়ে বৃহত্তর হলে, নারী আসন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। ফলে একটি আসন পাওয়া ইসলামী আন্দোলন কোনো নারী আসন পাবে না। দলটির এমপিকে অন্য কারও সঙ্গে জোট করতে হবে। তিনটি আসন পাওয়া বিএনপির শরিক তিন দল এবং তিনটি আসন পাওয়া জামায়াতের শরিক দুই দলের সঙ্গে জোট করলে সম্মিলিতভাবে একটি আসন পেতে পারে। সাত স্বতন্ত্র এমপি জোটবদ্ধ হলে ১ দশমিক ১৭ আসন পাবে। স্বতন্ত্র এমপিদের চারজন যদি অন্য দল বা জোটে যোগ দেন, তাহলে বাকি তিন এমপি জোট করলেও আসন পাবেন না।

আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যায় ভগ্নাংশ থাকলে এবং তা শূন্য দশমিক ৫-এর চেয়ে বেশি হলে, ভগ্নাংশকে পূর্ণ সংখ্যা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই নিয়মে বিএনপি জোটের প্রাপ্য ৩৫ দশমিক ৬৯ সংখ্যাকে ৩৬টি নারী আসন বলে গণ্য করা হবে।

জামায়াত জোটের প্রাপ্য ১১ দশমিক ৯৫ সংখ্যাকে ১২টি নারী আসন বলে গণ্য করা হবে। জামায়াত দলীয়ভাবে ৬৮ আসন পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত এবং খেলাফত মজলিসের তিন এমপি দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে তালিকাভুক্ত না হলে জামায়াতের প্রাপ্ত আসন হবে ১১ দশমিক ৪৪। আইন অনুযায়ী, ভগ্নাংশে শূন্য দশমিক ৫-এর কম হলে তা গণ্য করা হবে না। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের আসন হবে ১১। একই কারণে এনসিপির প্রাপ্ত আসন সংখ্যা হবে ১ এবং স্বতন্ত্র এমপিরা জোট করলে সমান সংখ্যক আসন পাবে। জামায়াত এবং বাংলাদেশ খেলাফত নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে তারা জোটবদ্ধই থাকবেন। ফলে এই জোটের নারী আসন হবে ১২।

স্বতন্ত্ররা জোটবদ্ধ না হলে

স্বতন্ত্র সাত এমপির সবাই বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। তারা দল থেকে বহিষ্কার হলেও নির্বাচনের পর বিএনপিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নারী আসনের নির্বাচনে তারা বিএনপির সঙ্গে তালিকাভুক্ত হলে দলটি ৩৭ জন নারী এমপি পাবে।

স্বতন্ত্র এমপিরা যদি কোনো দলে যোগ না দেন বা তাদের পৃথক জোট হিসেবে গণ্য করার পরও নারী আসনে কাউকে মনোনয়ন না দেন,তাহলে আইনের ৪(৬খ) উপধারা অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য আসনটি সর্বাধিক নারী আসন পাওয়া দল পাবে। এ হিসাবে বিএনপিই পাবে স্বতন্ত্র এমপিদের প্রাপ্য আসনটি।

স্বতন্ত্র এমপিরা নিজেরা জোটবদ্ধ হবেন কিনা,তা এখনও নিশ্চিত নয়। দশম সংসদে ১৬ স্বতন্ত্র এমপি নিজেরা জোট করে তিনটি আসন পেয়েছিলেন। একাদশ সংসদে তিন স্বতন্ত্র এমপি জোট করে একটি আসন পেয়েছিলেন। দ্বাদশ সংসদে ৬২ স্বতন্ত্র এমপি থাকলেও তারা জোট করেননি।

১৪ মার্চ ২০২৬
এ জি