‘নাগরিক সেবা কেন্দ্র জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে’

নাগরিকের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার চলমান উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভরসা—এমন অভিমত উঠে এসেছে চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালায়।

৯ জানুয়ারি শুক্রবার চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই কর্মশালায় চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন।

স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল ছিদ্দিক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, এটুআই-এর হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া খাতুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সরকারি সেবার প্রকৃত সফলতা কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন বা আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেবাগ্রহীতার আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জনই এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। তিনি বলেন, নাগরিকরা যখন সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, তখন রাষ্ট্রের প্রতি তাঁদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়। নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো এক ছাদের নিচে সমন্বিত সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তথ্য ও উপাত্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ব্যক্তি নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও সরকার—সব পক্ষকেই তথ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, নাগরিক সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং ধাপে ধাপে জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আইসিটি শিক্ষা সময়ের দাবি এবং নাগরিক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকার দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, সরকারি সেবাকে আরও সহজলভ্য, দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এটুআই পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেবাকে একীভূত করার মাধ্যমে নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নাগরিক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে এক ছাদের নিচে সেবা পাওয়ায় সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর সেবা পরিবেশ গড়ে তুলতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, দক্ষ জনবল এবং দায়িত্বশীল সেবাদানকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে নাগরিক সেবা কেন্দ্রের পরিধি আরও বিস্তৃত করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি টেকসই ও নাগরিকবান্ধব সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁদের ধারণা আরও সুস্পষ্ট হয়েছে এবং নিজ নিজ এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার অঙ্গীকার করেন তাঁরা।

স্টাফ করেসপন্ডেট/
৯ জানুয়ারি ২০২৬