নবীজির কটূক্তিকারীদের মৃত্যুদণ্ড ও কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সন্তোষপুরের পীর

কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘কাফের’ বা অমুসলিম ঘোষণা এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন সন্তোষপুর দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল করীম বীন মোহাম্মদ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্তোষপুর দরবার শরীফের নেছার মঞ্জিল মিলনায়তনে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

মাওলানা শাহ আব্দুল করীম বীন মোহাম্মদ বলেন, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে মহানবী (সা.)–কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ও কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা হাজি শরিয়ত উল্যাহ’র বংশধর ও মাদারীপুরের শিবচর আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।

এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অনুরোধ করছি, মহান জাতীয় সংসদে আইন করে যেন কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা এবং নবীজিকে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পাস করা হয়। এই দাবিটি আমাদের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। এটি আমাদের একার নয়, দেশের সকল মুসলিমের দাবি, যোগ করেন তিনি সভায় সন্তোষপুর দরবার শরীফের উদ্যোগে ইসলাম প্রচার ও মানবতার কল্যাণে ‘মুসলেহিয়া ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় জেলা-উপজেলা থেকে আগত হক্কানী আলেম ও ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য রাখেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সন্তোষপুর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ও মরহুম পীর মাওলানা মুসলিম উদ্দিনের নামে প্রতিষ্ঠিত এ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে বর্তমান পীর হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল করীম বীন মোহাম্মদকে ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি দরবার শরীফের পরিচালনায় ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে।

আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় শত বছর আগে ফরিদগঞ্জের চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নে সন্তোষপুর দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ত্যাগ ও সুনামের সঙ্গে সঠিক আকিদায় ইসলাম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে ওলামায়ে কেরামগণ।

-শিমুল হাছান, ১৮ এপ্রিল ২০২৬