Home / সারাদেশ / নজরদারি সত্ত্বেও থেমে নেই জাল টাকা তৈরি চক্রের তৎপরতা
Jal-Taka-1

নজরদারি সত্ত্বেও থেমে নেই জাল টাকা তৈরি চক্রের তৎপরতা

চাঁদপুর টাইমস করেসপন্ডেন্ট :

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি সত্ত্বেও থেমে নেই জাল টাকা তৈরি চক্রের তৎপরতা। র‌্যাব-পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে গাণিতিক সংকেতের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছে চক্রের সদস্যরা।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, চেনা গাণিতিক সংকেত ছাড়া তাদের যেমন সাড়া পাওয়া যায় না তেমনি তাদের অবস্থানও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, রাজধানীতে জাল টাকা সরবরাহকারী ও বাজারজাতকরণ চক্রের বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট থাকলেও কৌশলে যোগাযোগের কারণে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না। অনেক আসামি জামিনে মুক্তির পর তাদের নজরদারিতে রাখে পুলিশ। তবে গাণিতিক সংকেত ব্যবহার করায় কে কোথায় কখন জাল টাকা সরবরাহ করবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে তথ্য পাওয়া যায় না।

যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল এই গাণিতিক সংকেত ভাঙতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে গত দুই সপ্তাহেই পৃথক ২টি চক্রের ১৪ সদস্য গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে এ বছর জালনোট প্রস্তুতকারী চক্র ৪টি ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে। একটি গ্রুপ শুধু মসৃণ সুতা সরবরাহ, আরেকটি গ্রুপ টাকা তৈরির কাগজ/পেপার সংগ্রহ করে। অপর গ্রুপ সেই পেপার নিয়ে টাকার মুদ্রণ এবং জলছাপ দেয়। সুতার কাজ ও টাকার চারপাশে স্পট প্রিন্টের কাজ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা ছড়িয়ে দেয় আরেকটি চক্রটি।

জাল টাকা তৈরির এই পুরো কার্যক্রমে তারা নিজেদের মধ্যেও গাণিতিক সংকেতের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে ডিবি জেনেছে, শুধুমাত্র রমজান ও ঈদ আসলেই এই চক্রগুলো সক্রিয় হয়। তবে এদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।

এসব চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। তিনি জানান, এই ঈদে জাল টাকা, অজ্ঞানপার্টি ও মলমপার্টির দৌরাত্ম্য নির্মূলে বাহিনীদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পুলিশ, ডিবির পাশাপাশি এবার এসব চক্রকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সম্প্রতি রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে জালটাকা তৈরি চক্রের ৮ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। রমজান ও ঈদে মলম পার্টি, অজ্ঞানপার্টি এবং জাল টাকা চক্রের দৌরাত্ম্য নির্মূলে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে র‌্যাব-পুলিশ-ডিবির যৌথ প্রচেষ্টায় এবছর বাজার জাল টাকায় সয়লাব হয়নি বলে দাবি করেন ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারির কারণে জাল টাকা তৈরি সিন্ডিকেটের অধিকাংশ সদস্যই গা ঢাকা দিয়েছে। জাল টাকার দুটি চক্রের সদস্যদের আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এগুলোর ভিত্তিতে অভিযান চলবে।

এবছর জাল টাকার চক্রের সন্ধানে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছেন ডিবি পুলিশের পশ্চিম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাহমুদ নাসের জনি। তিনি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা বেশি দিন এক জায়গায় ব্যবসা করে না। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরির কারখানা স্থাপন ও দেশি-বিদেশি জালনোট প্রস্তুত করে।

১০ বছরের বেশি সময় ধরে এই কাজের সাথে অনেকেই জড়িত। তারা একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর জামিনে বেড়িয়ে একই পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। তাই এবার আগেভাগেই মাঠে নেমে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি রাখায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে চক্রটির সদস্যরা।

এই চক্র নির্মূলে কাজ করছেন ডিবি পুলিশের আরেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহররম আলী মাসুদ। তিনি বলেন, চক্রটির সদস্যরা গাণিতিক সংকেত ব্যবহার করলেও পুলিশ এখন এসব সংকেত ভাঙতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক গ্রুপ এই ব্যবসা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের অপতৎপরতা রোধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

আপডেট :   বাংলাদেশ সময় : ১২ আষাঢ় ১৪২২ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ২৬ জুন ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

চাঁদপুর টাইমস : প্রতিনিধি/এমআরআর/২০১৫

চাঁদপুর টাইমস ডট কম-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না