দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট, গ্রামে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং

দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে বাড়ছে বিদ্যুৎ সংকট। শহরাঞ্চলে তুলনামূলক কম লোডশেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরকারি তথ্যমতে, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। গ্যাস, জ্বালানি তেল ও কয়লার সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। পাশাপাশি নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পরিচালক (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার, কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এবং পটুয়াখালীর নোরিনকো কেন্দ্র কয়লা সংকটে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে লোডশেডিং কম রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে বেশি চাপ পড়ছে।

বিভাগভিত্তিক চিত্র

ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরে বেশি সংকট

এই তিন বিভাগে লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি হচ্ছে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় ৫০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরো খারাপ।

বরিশাল অঞ্চলে ১২ ঘণ্টা অন্ধকার

বরিশাল ও ঝালকাঠির অনেক এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।

রংপুরে কৃষিতে প্রভাব

গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সেচ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

রাজশাহী অঞ্চলে গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং

নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ব্যবসা ও কৃষিকাজে বড় প্রভাব পড়ছে।

সিলেটে ৩০ শতাংশ ঘাটতি

সিলেট বিভাগে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান প্রায় ৩০ শতাংশ। জগন্নাথপুর, জুড়ী, ধর্মপাশা, তাহিরপুরে দিনের অর্ধেক সময় লোডশেডিং হচ্ছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে তীব্র দুর্ভোগ

কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলায় চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা বিভাগেও চাপ

রাজধানীতে পরিস্থিতি সহনীয় হলেও আশপাশের জেলা ও উপজেলাগুলোতে লোডশেডিং বেড়েছে। ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাচ্ছে।

শিল্প ও ব্যবসায় প্রভাব

লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুদ্র শিল্প, ওয়েল্ডিং কারখানা, প্রিন্টিং প্রেস, ইটভাটা ও কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে মোটর চালানো যাচ্ছে না।

স্বস্তির অপেক্ষা

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, রামপাল কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট চালু হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে জ্বালানি ও কয়লার সংকট কাটানো না গেলে লোডশেডিং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। (ভোরের কাগজ)

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/

১৬ এপ্রিল ২০২৬