দেশজুড়ে নির্বাচনি উৎসব

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার বেশ গতি পেয়েছে। নির্বাচনি প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই জমজমাট হয়ে উঠেছে নির্বাচনের মাঠ। রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে । গত দুদিনেই নির্বাচনের পক্ষে সারা দেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তাদের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।

ভোটের সময় যত এগিয়ে আসবে এই প্রচারের গতি তত বাড়বে। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজ প্রতীকে ভোট চাইছেন। তবে,ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে চলমান প্রচারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধও শুরু হয়েছে।

পরস্পরের মধ্যে কিছুটা কাদা ছোড়াছুড়িও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবরও এসেছে। এদিকে নির্বাচনি প্রচারে দলীয় প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনায় রাজনৈতিক দলগুলোকে যতটা স্বতঃস্ফূর্ত দেখা গেছে, গণভোটের ক্ষেত্রে ততটা সক্রিয়তা চোখে পড়েনি। হাতেগোনা কয়েকটি দলের ‘হ্যাঁ’ভোটের পক্ষে ভোট চাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে জমজমাট নির্বাচনি প্রচারকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল প্রচার কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে গেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের বাগ্‌যুদ্ধকেও নির্বাচনি মাঠের স্বাভাবিক প্রবণতা উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাশা,দলগুলোর রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যেন মুখের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, এটি যেন সংঘাতের দিকে না গড়ায়,সে বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা দরকার।

১২ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা নয় ঘণ্টা ভোট নেয়া হবে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পর্কিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে পারবেন না। এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থীরা নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রচারের ক্ষেত্রে নির্বাচনি জনসভা বা সমাবেশে কোনো বাধা না থাকলেও অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার তথ্য লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না।

আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের রেওয়াজ অনুসরণ করে সিলেট থেকে প্রচার শুরু করেছেন। প্রথম দিন তিনি সাতটি জেলায় নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় নির্বাচনি প্রচার শুরু করে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত তার ধারাবাহিকতা চলে। নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে বুধবার রাতে সিলেট পৌঁছে হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহ পরাণের (র.) মাজার জিয়ারত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ওই রাতে দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত শ্বশুরবাড়িতে কিছু সময় কাটিয়ে শহরের একটি হোটেলে অবস্থান করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সড়ক পথে সিলেট থেকে যাত্রা করে একে একে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদীর পৌরপার্ক এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিতে যখন তিনি মঞ্চে ওঠেন তখন সময় ছিল রাত পৌনে চারটা।

তবে আগের দিন থেকে অবস্থান করা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সে সময়ও তারেক রহমানের কথা শোনার আগ্রহের কমতি ছিল না। টানা ১৬ ঘণ্টার নির্বাচনি কর্মসূচি সম্পন্ন করে গতকাল ভোরে ঢাকা ফিরেন তারেক রহমান। বিকেলেই আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রথম দিনের টানা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময়ে তারেক রহমানকে ক্যাজুয়াল পোশাক পরতে দেখা গেছে।

নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিতে আজ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তারেক তিনি। আজ রাতে চট্টগ্রাম অবস্থান করে সাড়ে নয়টায় তরুণদের সঙ্গে ‘পলিসি ডায়ালগ’-এ মতবিনিময় সভা করবেন। বেলা ১১টায় শহরের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর সড়কপথে ঢাকার পথে তিনি ফেনীর পাইলট কলেজ ময়দান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী, দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে সমাবেশ করবেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফেরার পর নিজ নির্বাচনি এলাকা বগুড়াসহ একাধিক দফায় দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় সফর করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, প্রচার শুরুর প্রথম দিন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে জনসভার বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের নির্বাচনি কর্মসূচির যাত্রা শুরু করেন। ওই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা তৌহিদুজ্জামানসহ শরিক দলের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন।

এদিকে, গতকাল ফজরের নামাজের পরপরই নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। প্রচারের দ্বিতীয় দিন দলটির আমির দুদিনের সফরে উত্তরবঙ্গ গেছেন। গতকাল বেলা ১১টায় পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি ঢাকার বাইরের নির্বাচনি জনসভা শুরু করেন। একই দিন পর্যায়ক্রমে তিনি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সকাল ৭টায় তিনি রংপুরে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, বগুড়া শহর, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ শহর, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও পাবনায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিয়ে রাতেই ঢাকা ফিরবেন। এরপর তিনি দেশের অন্যান্য অঞ্চল সফর করবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম দুদিনের নির্বাচনি জনসভায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে ঘায়েল করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। দুই দলের নেতারাই একে অপরের নাম উল্লেখ না করে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে পরোক্ষভাবে ধর্মের বিষয়টিও উঠে এসেছে। উঠে এসেছে স্বাধীনতাযুদ্ধসহ সাড়ে ১৫ বছরের ভূমিকাও।

তারেক রহমান তার সিলেট সফরের বক্তব্যে বলেছেন, জান্নাতের টিকিট বিতরণ করে একটি দল শিরক করছে। শিরক আল্লাহ কোনোভাবেই পছন্দ করেন না। শিরক করলে তার ক্ষমা নেই। জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তার নির্বাচনি এলাকা খুলনার একটি জনসভায় বলেছেন, লন্ডন থেকে ১৭ বছর পর একজন মুফতি আবির্ভূত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিন নেতার সমাধি ও শহীদ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিতার কবর জিয়ারত করে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।

গতকাল রাজধানীর ডেমরায় নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। এর আগে বৃহস্পতিবার তার ভাই ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বরিশাল শহর থেকে (নিজ নির্বাচনি এলাকা বরিশাল-৫) আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।

এদিকে রাজনৈতিক দলের বাইরেও বেশ কয়েকজন আলোচিত দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তারা বিভিন্ন কৌশলে ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচনি এলাকার জনগণের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। কোনো কোনো প্রার্থী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। গোপালগঞ্জে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।

প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, এককথায় বলব নির্বাচনি প্রচারে ধুম পড়েছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে বড় ধরনের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। একটি কথা না বললেই নয়, আমরা কিছুদিন ধরে ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট নিয়ে যে সংশয়ের কথা শুনে আসছি, প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে গেছে। দল ও প্রার্থীরা যেভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করছে, তাতে নির্বাচনটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরো বলেন, বিভিন্ন দলের নেতাদের মুখে আমরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাচ্ছি,এটাকে আমি কোনোভাবেই কাদা ছোড়াছুড়ি হিসেবে দেখছি না। প্রতিটি দল বা জোট ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ লালন করে। এক্ষেত্রে তারা একে অপরের যে সমালোচনা করছে, সেটা তাদের মতাদর্শ প্রকাশেরই অংশ। এটা না হলে তারা কীভাবে তাদের আর্দশ প্রচার করবে? আমরা একে অপরের গঠনমূলক সমালোচনা চাই। তবে লক্ষ রাখতে হবে,সমালোচনা যেন সংঘাতে রূপ না নেয়।

জমজমাট প্রচার কার্যক্রমকে ইতিবাচক উল্লেখ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল এক প্রতিক্রিয়ায় আমার দেশকে বলেন, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রধান জোটের নেতারা উদ্যম ও উচ্ছ্বাসে ভরা প্রচার শুরু করেছেন। আসন্ন নির্বাচনের জন্য এটা তাৎপর্যপূর্ণ ইতিবাচক দিক।

দুই জোটের প্রথম দিনের উচ্ছ্বাসপূর্ণ প্রচারের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সিলেট থেকে ‘বিএনপি জোট’ এবং ঢাকা থেকে‘১০ দলীয় জোটের’ এ নির্বাচনি প্রচার শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। দুয়েকটি নির্বাচনি অনিয়ম ও সহিংসতার খবর আমরা যেটা দেখলাম, আশা করব এটা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবেই থাকবে। এর আকার ব্যাপক হবে না। এও আশা করি, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে ন্যায্য পদক্ষেপ নেবে। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠ সহিংসমুক্ত ও লেভেল প্লেয়িং থাকবে।

নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে যে শঙ্কা প্রকাশের খবর পাওয়া গিয়েছিল,উৎসবমুখর প্রচারে তা কেটেছে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে রাজনীতি বিজ্ঞানের এই শিক্ষক বলেন, বিভিন্ন টকশোতে আসন্ন নির্বাচনের‘অনিশ্চয়তা’ বিষয়ক ধারণা-আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের‘মতপ্রকাশের অধিকার’ হিসেবে দেখাই ভালো মনে করি। প্রতিদ্বন্দ্বী দু জোটের প্রচারের কোনোটিই ‘নির্বাচনের বিকল্প কিছু বিবেচনায় রাখে’ বলে এখনো দৃশ্যমান হয়নি। তাই আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ জানানোই ‘যৌক্তিক’ মনে করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন,যেভাবে প্রচারের শুরুটা দেখা যাচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমাদের প্রত্যাশাটাও এমন ছিল। প্রচার শুরুর পর একটি নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে। আশা করছি এ ধারাবাহিকতায় ভোটও উৎসবমুখর হবে।

তিনি বলেন,রাজনৈতিক বক্তব্যে কাদা ছোড়াছুটির বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখতে চাই না। এটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলোর অলংকার হিসেবে দেখতে চাই। তবে আশা করব,এটা যেন সুস্থ ধারায় চলে। এটা অসুস্থ ধারার চলে গেলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। জুলাই বিপ্লবে জনগণের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচারে গণভোটের বিষয় উপেক্ষিত হচ্ছে-এমনটা উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এটা খুবই হতাশাজনক। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এটা কাম্য নয়। যেসব দলকে আমরা গণভোটের বিষয়ে সিরিয়াস দেখেছিলাম, তাদের মধ্যেও গণভোটের প্রচার দেখা যাচ্ছে না। তারা গণভোটের চেয়ে দলীয় প্রতীকের পক্ষেই ভোটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের বিষয়ে নীরব থাকলে তরুণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেবে বলে মনে করেন এ অধ্যাপক।

২৪ জানুয়ারি ২০২৬
এ জি