শীর্ষ সংবাদ

দিনে জমজমাট আর রাতে ভুতুড়ে : এই নিয়ে চাঁদপুর

প্রকৃতির নিয়ম বদলায়নি এতটুকুন। আগের মতোই সূর্য উঠে প্রথম সকালে, আবার অস্ত যায় সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে। তবে বদলে গেছে মানবসৃষ্ট সকল আয়োজন। আগের মতো জৌলুশ না থাকলেও বেলা গড়াবার সাথে সাথেই জমজমাট হচ্ছে শহর। প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুন, মানুষ ঘর থেকে বেড় হচ্ছে রাস্তায়। তবে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শহরজুড়ে নেমে আসে ভুতুড়ে অন্ধকার, সুনশান নীরবতা। এই নিয়েই চলছে সিকি কোটি জনবসতির নদীবিধৌত ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে ভয় আর উৎকণ্ঠা নিয়ে চিরচেনা চাঁদপুর যেনো আজ বড্ড অচেনা শহর।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ছেয়ে গেছে গোটা বিশ্ব। সেই থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশ। প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর মিছিল। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে এ পর্যন্ত চাঁদপুরে করনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ জন। আর করো না রোগ সন্দেহ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন। পরিসংখ্যানটা এখানেই শেষ নয়। গেল এক মাসে বাংলাদেশের করনা রোগের ডেঞ্জার জেলা হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে এসেছেন প্রায় দুই হাজার লোক। আর এ পর্যন্ত যতজন কোন আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে তাদের প্রত্যেককেই নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে পালিয়ে আসা। ফলে উৎকণ্ঠা ভয় যে ধরেছে চাঁদপুর জেলাবাসীকে।

এর ফলে করনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন থেকে গত ২৪ মার্চ সকল প্রকার গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি ঔষধ এবং নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিছুদিন আগে সেটিকে আয়ধ্যা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬ টার পর দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। সবশেষ গেলো বৃহস্পতিবার লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

মূলত এরপর থেকেই ব্যস্ততম চাঁদপুর শহরের চিরচেনা রুপ ক্রমশ বদলাতে থাকে। সন্ধ্যা না নামতেই ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয় চাঁদপুর। শহরের প্রধান ব্যস্ততম এলাকা শপথ চত্বর, পালবাজার মোড়, ছায়াবানি মোড়, জোড়পুকুড়, নতুনবাজার, বিপনীবাগ, বাস স্টেশন, রেল স্টেশন লঞ্চঘাট, যেখানে সব সময় টইটম্বুর থাকতো অটোরিক্সা, সিএনজি, রিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন আজ সেখানে কেবলই সুনশান নিরবতা। হুইসেল বাঁজছে না, ট্রেন কিংবা নৌযানের। রাতজাগা নিশাচর প্রাণীগুলো নির্ভয়ে জীবনের ছন্দ দুলিয়ে খেলা করলেও, মানুষ থাকছে ঘর বন্দী।

সন্ধ্যা নামার পর থেকেই দোকানপাট, মার্কেট, অফিস-পাড়া, রেস্টুরেন্ট বন্ধ। বন্ধ হয়ে গেছে মানুষের কাজকর্মও। ফলে রাতের চাঁদপুর এতটাই নীরব হয়ে গেছে, যেন এই শহরে কোন মানুষ নেই। শহরের একমাত্র পর্যটন এলাকা ত্রিনদীর মোহনায় কলরব নেই দিনশেষে একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস খোঁজা সেই কর্মজীবী মানুষের।সেখানে এখন কেবল শূন্যতা বিরাজ করছে। মেঘনা আর ডাকাতিয়াে শান্ত আর অশান্ত ঢেউগুলো পাড়ে আছরে পরে নিজেই আবার ফিরে যায় নদীর গভীরে।

মানুষ আছে, কোন উৎসব নেই,খাবার আছে, সে খাবারে তৃপ্তি নেই। প্রতিবেশী আছে, যোগাযোগ নেই। পাশাপাশি বসবাস হলেও একে অপরের সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় চলতে হচ্ছে।

এদিকে,১ এপ্রিল থেকেই বদলে যেতে শুরু করে দিনের চাঁদপুর। শহরের মার্কেট কিংবা বিপণিবিতানগুলো বন্ধ থাকলেও অন্যান্য সকল দোকানপাট হাট বাজার খোলা হতে শুরু করে। ফলে আগের মতো জৌলুশ না থাকলেও বেলা গড়াবার সাথে সাথেই জমজমাট হয়ে উঠে শহর। প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুন, মানুষ রাস্তায় বের হতে থাকে। ভাম্যমান আদালতের মোবাইল কোর্টে জরিমানা, পুলিশের জনসচেতনতায় মাইকিং কিংবা সেনাবাহিনীর টহল উপস্থিতিও দমাতে পারছে না তাদেন। দলবেঁধে মানুষ বাজার করছে, কেনাকাটা করছে, রাস্তায় চলাফেরা করছেই।

সব মিলিয়ে এ যেনো দিনে জমজমাট আর সন্ধায় ভুতুড়ে চাঁদপুর।

প্রতিবেদক:আশিক বিন রহিম,১৩ এপ্রিল ২০২০

Share