দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ৫ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুসহ পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে। তাদের সবার বাড়ি ফেনী জেলায়।

শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে দেশটির জোহানেসবার্গ থেকে কেপটাউনে যাওয়ার পথে ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের বাফুটু ওয়েস্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- ফেনী সদরের পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইসমাইল হোসেন (৩০), দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ জয়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুরের রাজু আহমেদ (৩৪), একই উপজেলার মাতুভুঞা ইউনিয়নের মো. মোস্তফা কামাল (৪০), সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিসপুর ইউনিয়নের আবুল হোসেন (৪৫) ও তার ছেলে নাদিম হোসেন (১০)।

নিহতদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার বিরলী গ্রামের আব্বাস বেপারী বাড়ির শরীয়ত উল্লার ছেলে ইসমাইল হোসেনের ভাই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার আবদিন থেকে কেপটাউনের ফ্রান্স অ্যাম্বাসির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন ইসমাইলসহ ৭ জন। পথিমধ্যে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে একটি চলন্ত লরির নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় আনিসুল হক মিলনসহ আরও একজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাংলাদেশি এবং হতাহতদের আত্মীয়-স্বজনের তথ্য মতে, দেশে ফিরতে চাওয়া আনিসুল হক মিলনকেই কেপটাউন এয়ারপোর্টে বিদায় জানাতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি এখন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রবাসীরা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত সংখ্যক বাংলাদেশির মৃত্যু কখনো ঘটেনি। এ ঘটনায় দেশটিতে বসবাস করা বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার তানিয়া দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানান।

ফেনী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন তার উপজেলার একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) একাধিকবার কল করলে পাওয়া যায়নি। তবে দাগনভূঞার জয়লস্কর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিলন জানান, তার ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী সোনাগাজী উপজেলায় দুজন মারা গেছেন।

নিহত ইসমাইল হোসেনের পিতা শরীয়ত উল্লাহ জানান, আমার ছেলে ইসমাইল হোসেন অবিবাহিত। দুই মাস পরে দেশে ফিরলে তাকে বিয়ে করানোর প্রস্তুতি চলছিল। তিনি ১১ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকেন। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে হারিয়েছি তবে মরদেহটি দ্রুত চাই।

বার্তা কক্ষ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

Share