হাজীগঞ্জে টিকটকারদের হামলায় দম্পতি আহত, স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

হাজীগঞ্জে মেয়ে সংক্রান্তকে বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় টিকটকারদের অতর্কিত হামলায় স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপরজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঠিকাদার দম্পতির ওপর হামলার পূর্বে হামলাকারীরা বসতঘরে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতরা হলেন, মানিক (৪০) ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩৫)।

২৬ অক্টোবর  মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে পৌরসভাস্থ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টোরাগড় গ্রামের সুলতান সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা  ঘটেছে।

জানা যায়, ওই বাড়ির মৃত আ. মান্নানের ছেলে মানিকের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে আশা-যাওয়ার মধ্য উত্ত্যক্ত করে আসছে একই এলাকার তালুকদার বাড়ির এমরান হোসেনের ছেলে টিকটকার রাজভী (১৮)।

ঘটনার দিন বিকেলে রাজভী তার কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে টিক টক তৈরি করতে আলীগঞ্জের মঞ্জু মিয়ার বালুরঘাটে যায়। সেখানে গিয়ে তারা বালুর ট্রলারে উঠে টিকটক তৈরি কর। ওই সময় কয়েক বন্ধুর সাথে তার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। তাদের উভয়কে শান্ত করার জন্য বলে সাগর নামের একজন। সাগর কেন তাদের শান্ত হতে বললেন এ জন্য তাকেও তারা মারধর করেন।

খবর পেয়ে সাগরের মা জোৎস্না বেগম বাড়ির সম্পর্কীয় দেবর মানিক মিয়াকে অনুরোধ করে ঘটনাস্থলে পাঠান। উনি গিয়ে তাদের মধ্য হওয়া মারামারি থামিয়ে দেন।

এতে রাজভী মানিক মিয়ার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তার জেঠাতো ভাই সামির, তাদের একই বাড়ির জিয়াদ, শামীম, রাজভীর পিতা এমরান হোসেন তালুকদার ও সামির পিতা সেলিম তালুকদার ও তার মেয়ে জামাই নিশানসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দলবল নিয়ে মানিক মিয়ার বসতঘরে হামলা চালায়। ওই সময় তারা ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর চালিয়ে স্টিলের আলমিরা থেকে তার ছোট ভাইয়ের ব্যবসার নগদ ১১ লাখ টাকা এবং ৫ ভরি ওজনের  স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে মানিক মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, ‘রাজভী আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে প্রতিদিন স্কুলে আশা যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছে।এ বিষয়টি তার পরিবারের লোকদের অবহিত করি। আমরা কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই টিকটকার রাজভীর নেতৃত্বে  একটি সংঘবদ্ধ দলনিয়ে এসে আমাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং তাদের সাথে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রের আঘাতে আমরা স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত হই। বর্তমানে আমারা  চিকিৎসাধীন রয়েছি। হামলাকারীরা স্টিলের আলমিরা ভেঙ্গে নগদ ১১ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট  করে নিয়ে যায়। পরে নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ ফোন করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন।’

প্রতিবেদক: জহিরুল ইসলাম জয়, ২৭ অক্টোবর ২০২১

Share