দেশের জেলা সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন থানা’ করার ঘোষণা আইজিপির

জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের প্রতিটি জেলা সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন থানা’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আইজিপি বলেন, জেলা সদরের প্রতিটি থানাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হবে, যাতে সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানার সার্বিক কার্যক্রম একজন সার্কেল অফিসার সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করবেন।

তিনি বলেন, “আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই যাতে থানায় আসা মানুষ হাসিমুখে ফিরে যেতে পারেন।”

বাংলাদেশ পুলিশকে ঐতিহ্যবাহী সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ভবিষ্যতেও জনগণের সেবা ও দেশের কল্যাণে পুলিশ দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দল-মত নির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ থাকবে না। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নারীর প্রতি সহিংসতা ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিষয়ে আইজিপি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলা তদন্তের মানোন্নয়নে সিআইডিকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানান আইজিপি।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, সড়ক, মহাসড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি বা ছিনতাই ঠেকাতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবও নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পোশাকশিল্প খাতে বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে শ্রমিক নেতা, মালিকপক্ষ এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঈদের সময় উগ্রবাদী তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি জোরদার থাকবে বলেও জানান আইজিপি। তিনি বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের মূল শক্তি এবং জনবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং অতিরিক্ত আইজি সরদার নূরুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
৯ মার্চ ২০২৬