নতুন পাঠ্যবইয়ে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা
নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬-এর পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং পরিমার্জন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।
সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরা হয়েছে।
একইসঙ্গে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা এবং তাঁর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এনসিটিবির পাঠ্যবই সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত একজন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে (আমার দেশ)কে জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সুপারিশের আলোকে মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে।
বিশেষ করে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে দেশের শাসনতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাস আরো বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়েও প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বইগুলো প্রকাশ ও অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,এবার পাঠ্যবইয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান,পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালি শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান,৬ষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার পতন ও তার পলায়নের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা : ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে‘স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠে’মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়,২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের পর নেতৃত্বশূন্য পরিস্থিতিতে মেজর জিয়াউর রহমান মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
পরদিন তিনি শেখ মুজিবের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন-যা জনগণের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা ও প্রতিরোধের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ,যথা-কৃষক,শ্রমিক,ছাত্র,যুবদের সঙ্গে সেনাবাহিনী,ইপিআর,পুলিশ ও আনসারে কর্মরত বাঙালিরা এ যুদ্ধে অংশ নেন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
নবম শ্রেণির বইয়ে রাজনৈতিক অবদান
নবম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অংশে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাকালে তার একটি ছবিও সংযোজন করা হয়েছে।
এ অধ্যায়ের ২২ পৃষ্ঠায় দেশের রাজনীতিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরে বলা হয়,১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল প্রতিষ্ঠার ফলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়। এরপর ১৯৭৯ সালে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হয়।
অর্থনীতি ও উন্নয়নে শহীদ জিয়ার ভূমিকা :
পাঠ্যবইয়ে কৃষি ও অর্থনীতিতে শহীদ জিয়ার অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচি,ফসল বহুমুখীকরণ,স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সূচনার মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প বিকাশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব :
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে,তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। এরশাদবিরোধী তিনটি রাজনৈতিক জোটের রূপরেখা অনুযায়ী তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
একটি অবাধ,নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।
২ ডিসেম্বর ২০২৬
এ জি