জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক (মাদ্রাসা) নির্বাচিত মাও. মোশাররফ হোসাইন
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষকরা হলেন সেই মেরুদণ্ডের মূল কারিগর। শিক্ষাদানের মতো মহান ব্রতে আত্মনিয়োগ করে যারা নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষার দ্যুতি ছড়িয়ে দেন, তারা সমাজের শ্রেষ্ঠ সন্তান। ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে আত্মনিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক(মাদ্রাসা)’ নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই সম্মাননা কেবল ব্যক্তিগত যোগ্যতার স্বীকৃতি নয়, বরং সুশিক্ষার বিস্তার, মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং নীতি-নৈতিকতাভিত্তিক আলোকিত সমাজ গঠনের এক জাতীয় উদযাপন। জ্ঞানসাধনা ও শিক্ষাদান একজন সফল শিক্ষকের মূল লক্ষ্য এবং তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও মূল্যবোধ। মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন তার দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মাঝে বইয়ের পাতায় শিক্ষাদানকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষার পাঠ দিয়েছেন। দ্বীনি শিক্ষা ও আধুনিক যুগের চাহিদা—এ দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকনির্দেশনা দেওয়াই ছিল তার অনন্য বৈশিষ্ট্য।
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক (মাদ্রাসা) নির্বাচিত হওয়ার পেছনে কাজ করেছে তার বহু বছরের আত্মত্যাগ ও অভিনব শিখন পদ্ধতি। শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় পাঠদান করা এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ স্নেহে অনুপ্রাণিত করা। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার পাশাপাশি মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটানো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পরিবেশ উন্নতকরণ, ডিজিটাল শিক্ষার সংযোজন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অনন্য অবদান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক (মাদ্রাসা) হিসেবে নির্বাচিত হওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইনের এই অর্জন প্রমাণ করে যে, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে তার মূল্য সমাজ ও রাষ্ট্র ঠিকই অনুধাবন করে।
তার এ অর্জন দেশের হাজারো তরুণ ও উদীয়মান শিক্ষককে শিক্ষা সেবায় নিজেদের সমর্পণ করতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
বর্তমান যুগে যখন নৈতিক শিক্ষার সংকট দেখা যায়, তখন মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইনের মতো শিক্ষাগুরুদের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি হয়। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল পাঠ দান করেন না, তিনি একটি যুগের রূপরেখা তৈরি করেন। তার এই প্রাপ্তি গোটা শিক্ষক সমাজের শির উঁচু করেছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন চাঁদপুর জেলা প্রশাসকরে বাসভবন সংলগ্ন ও চাঁদপুর সদর হাসপাতালের বিপরীত পাশে অবস্থিত কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতীব। বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার রূপকার মরহুম মাও. এম এ মান্নান (রহ.) এর স্মৃতি বিজড়িত ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এম এম বাহাউদ্দীনের যোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার সুযোগ্য মুহাদ্দিস। তিনি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট গাজীপুরের অনলাইন আরবী ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন মাষ্টার ট্রেইনার। তিনি ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস) ১ম শ্রেণি ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএ ও এম এ ১ম শ্রেণি, দারুল উলূম ঢাকা থেকে ইফতা ১ম শ্রেণিতে উন্নিত হন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর এর আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নজিবুর রহমান তত্ত্ববধায়নে ২০২২ খ্রি. এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. মুহা. বিলাল হুসাইন এর তত্ত্ববধায়নে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হন। তাঁর গবেষণার বিষয় আব্বাসীয় যুগে আরবী অভিধান চর্চা ও বিকাশ। আমরা এই মহতী শিক্ষকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ. শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘ কর্মজীবন কামনা করি, যেন তিনি আরও দীর্ঘকাল দেশের শিক্ষা অঙ্গনকে তাঁর প্রজ্ঞা ও আলো দিয়ে সমৃদ্ধ করে যেতে পারেন।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬