বিশেষ সংবাদ

রাজপথের আতঙ্করাই আসছেন ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে !

ছাত্রদলের নতুন কমিটি এক মাসের মধ্যে : রাজপথের আতঙ্করাই আসছেন নেতৃত্বে !!ছাত্রদলের পুরানো কমিটি ব্যর্থতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে একই সঙ্গে আন্দোলনে গতি ফেরাতে ছাত্রদলে আসছে নতুন নেতৃত্ব । আগামী এক মাসের মধ্যেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেয়া হচ্ছে। বরাবরের মতো এবারেও সিন্ডিকেট বাণিজ্যর দৌরাত্ম্য রয়েছে । তবে সব কিছু উপেক্ষা করেই সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে ঢেলে সাজানো হবে ছাত্রদলকে।

নতুন নেতৃত্বের মধ্যে সভাপতি সাধারন সম্পাদক পদে ,আঞ্চলিকতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , বয়স এবং আগের কার্যদক্ষতার ওপর নির্ভর করেই অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন , এজমাইল হোসেন পাইলট , আলমগীর হাসান সোহান – আসাদুজ্জামান আসদ,ওমর ফারুক মুন্না ও নুরুল হুদা্ বাবু । এবছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক ছাত্র নেতারা কেন্দ্রীয় পদ-পদবীতে উঠে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির হাই কমান্ডের কয়েকটি সূত্র ।

রাজনীতির মাঠে কে বেশি থেকেছেন আর কে আত্মগোপনে ছিলেন এমন হিসাব এখন আর না মিলিয়ে যোগ্যদের দিয়ে যুগোপযোগী কমিটি দেখতে চান দলের নেতারা।কে বিয়ে করেছেন আর কে ব্যবসা করছেন এসব বিষয়কে অনেকে আপেক্ষিক দাবি করলেও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অভিমত, অবিবাহিত ও অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত নয় এমন নেতাদের হাতে ছাত্রদলের দায়িত্ব দেয়া উচিত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ অক্টোবর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বড় কমিটি দিয়েও সাবেক রাষ্ট্রপতি ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে না পারার মতো ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে রাজিব-আকরামুল কমিটিকে।

চূড়ান্ত হয়ে থাকা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণার পরপরই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা হতে পারে এমন আভাস পাওয়া গেছে দলটির হাইকমান্ড সূত্রে।
সূত্র জানায়, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য দলের চেয়ারপারসনকে পরামর্শ দিয়েছেন। অধিকতর তরুণ এবং দলের জন্য নিবেদিতদের গুরুত্ব পদে রাখার জন্যও অন্যান্যদের প্রতি নির্দেশনা এসেছে লন্ডন থেকে। আগামীতে কারা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে পারেন সে বিষয়ে একটি খসড়াও চেয়েছেন তারেক রহমান।

এরই মাঝে দলের পক্ষ থেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের কাছ থেকে বর্তমান কমিটিতে থাকা ত্যাগী ও কর্মঠ ছাত্রনেতাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। বর্তমান কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া কমপক্ষে ১ ডজন নেতার বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন তুলে দেয়া হবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে।

এজন্য নতুন কমিটির গঠনের জন্য বর্তমান কমিটি থেকে ত্যাগী নেতাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন দলের হাই কমান্ড, পরবর্তী কমিটির জন্য সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন আলমগীর হোসেন সোহান (সেশন- ১৯৯৭-১৯৯৮, ঢাবি , বিবাহিত, ঝিনাইদহ ) , এজমল হোসেন পাইলট (সেশন-১৯৯৭-১৯৯৮, ঢাবি, বিবাহিত,নেত্রকোনা ) , মামুন বিল্লাহ (সেশন- ১৯৯৮-১৯৯৯, ঢাবি, বিবাহিত,বরিশাল ) , নিয়াজ মাখদুম মাসুম বিল্লাহ সহ সভাপতি ( সেশন -৯৭-৯৮, ঢাবি,কুমিল্লা ) জহিরুল ইসলাম বিপ্লব সহ সভাপতি ( সেশন- ৯৮-৯৯ ঢাবি, বগুড়া ) ।

সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ (সেশন- ১৯৯৮- ১৯৯৯, ঢাবি , অবিবাহিত , ঝিনাইদহ ) , ওমর ফারুক মুন্না -যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সাধারন সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ( সেশন ১৯৯৮-৯৯ অবিবাহিত, জবি , কুমিল্লা ) । নুরুল হুদা বাবু যুগ্ম সাধারন সম্পাদক (সেশন- ১৯৯৯-২০০০, ঢাবি ,অবিবাহিত দিনাজপুর ) , মিয়া মো রাসেল যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ( সেশন -৯৯-২০০০ ,ঢাবি বিবাহিত , টা্ঙ্গাইল) , মিজানুর রহমান সোহাগ যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ( সেশন -৯৯-২০০০ ,ঢাবি, বিবাহিত, মাগুড়া ) , আবদুর রহিম হাওলাদার সেতু যুগ্ম সাধারন সম্পাদক (সেশন- ১৯৯৯-২০০০, বিবাহিত, বরিশাল ) এবং শামসুল আলম রানা যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ( সেশন- ৯৯-২০০০ , ঢাবি ,ফেনী) ।

এদের মধ্যে থেকে বিএনপির এই দুঃসময়ে ছাত্রদলের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এদিকে টানা ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির শক্তিশালী এ সংগঠনটির কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে চায়। প্রতিপক্ষের কাছে যারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের ক্ষমতা রাখেন, তাদেরকেই সংগঠনটির শীর্ষ পদে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন পরামর্শকরা।

এরশাদের আমলে রাজপথে আতঙ্কের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মতো বিএনপির এই অঙ্গ সংগঠনটিও রাজপথের লড়াকু সংগঠন হিসেবে খ্যাতি পায় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। তবে আলোচনা-সমালোচনা আর পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে দু’দফায় কমিটি গঠন হলেও বর্তমান সরকারের টনক নড়াতে পারেনি ছাত্রদল।

বর্তমান কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আকরাম উল হাসান পরবর্তী কমিটিতে সভাপতি হতে জোর লবিং শুরু করেছেন। ১৯৯৫ সালে এস এস সি পাস করা এ ছাত্র নেতার বাড়ি নরসিংদীতে। আঞ্চলিকতার কারণে এগিয়ে থাকলেও বর্তমান কমিটির ব্যর্থতায় দায়ের কারণে হাইকমান্ড নিজেদের মতো করে ভাবছে। কারণ তিনি আন্দোলন সংগ্রামের সময় আত্মগোপনে ছিলেন এবং ভাইভার কেন্দ্রিক রাজনীতিতে ব্যস্ত সময় পার করেন। এত আন্দোলন সংগ্রামে তিনি একবারও গ্রেফতার হননি। এনিয়েও দলের মধ্যে আকরাম উল হাসানকে নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তার বিয়ে নিয়েও একটি গুঞ্জন রয়েছে।(বিডি সংবাদ.কম)

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ০৯:৩৭ পি,এম ১১ অক্টোবর ২০১৬,মঙ্গলবার
ইব্রাহীম জুয়েল

Share