চাঁদপুরে লঞ্চে জন্ম নিল কন্যাশিশু, পাশে দাঁড়াল পুলিশ-সাংবাদিক-স্বেচ্ছাসেবীরা

প্রসব ব্যথায় কাতর এক মায়ের অসহায় মুহূর্তে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুলিশ, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীরা। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই লঞ্চের ভেতরেই জন্ম নেয় এক কন্যাশিশু আর সেই সংকটময় সময়েই এগিয়ে আসে মানুষ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা এমভি হাশেমপুর লঞ্চে ঘটে এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। মতলবের জহিরাবাদ চর উমেদ এলাকা থেকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই প্রসব ব্যথা শুরু হয় ওই প্রসূতির। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠলে লঞ্চেই জন্ম নেয় তার কন্যা সন্তান।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশ। তাদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ও নবজাতককে দ্রুত উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে এস এস ইকবাল জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং প্রসূতির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এ সময় সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন মানবিক কাজ করে আমার খুব ভালো লাগছে। 

এদিকে মানবিকতার আরেকটি নজির স্থাপন করেছেন লঞ্চ মালিক। নবজাতকের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ৫ হাজার টাকা ও নতুন পোশাক উপহার দেওয়ার পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ যাতায়াত ভাড়া আজীবনের জন্য ফ্রি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রসূতির স্বামী আল আমিন প্রধানীয়া জানান, তারা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে সবার সহযোগিতায় মা ও সন্তান এখন চিকিৎসাধীন।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, নবজাতক সুস্থ রয়েছে। তবে প্রসূতির প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।

প্রতিবেদক: শরীফুল ইসলাম,
৩১ মার্চ ২০২৬