চাঁদপুর লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন ঘরমুখী মানুষের ঢল

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন জেলায় জীবন ও জীবিকার তাগিদে অবস্থান করা চাঁদপুরের মানুষেরা। ফলে চাঁদপুরের লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে দেখা যাচ্ছে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলো প্রিয়জনের কাছে ফেরা মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নদীপথে চাঁদপুরে আসা যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে লঞ্চঘাট এলাকায়। প্রতিটি লঞ্চই প্রায় ধারণক্ষমতার কাছাকাছি যাত্রী নিয়ে ঘাটে ভিড়ছে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। লঞ্চে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খলভাবে ওঠানামা নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। 

অন্যদিকে চাঁদপুর রেলস্টেশনেও প্রতিটি ট্রেন পৌছানোর আগেই প্ল্যাটফর্মে জমে উঠছে যাত্রীদের ভিড়। ট্রেন থেকে নামার পর প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কেউ স্বস্তির হাসিতে স্বজনকে বরণ করছেন, কেউবা ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন বাড়ি ফেরার যানবাহন খুঁজতে। 

চাঁদপুর শহরের কোর্ট স্টেশন বেশ কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের।‌ এসব যাত্রী জানান, সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ না পেলেও ঈদকে ঘিরেই তারা বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেন। তবে চাঁদপুর শহরের যানজট এবং অতিরিক্ত অটোরিক্সার ভোগান্তি নিয়ে বরাবরের মতো বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তারা।

শহরের পৌঊবাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীদের হাতে বড় বড় ব্যাগ, বাজারের থলে কিংবা ঈদের কেনাকাটার প্যাকেট। শহর থেকে গ্রামমুখী সিএনজি, অটোরিকশা ও লোকাল পরিবহনের চাহিদাও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এতে ভাড়া কিছুটা বাড়লেও প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর তাগিদে যাত্রীরা সেটি মেনে নিচ্ছেন। 

জেলার বিভিন্ন উপজেলার যাত্রীরা জানান, ঈদের সময় গ্রামের বাড়িতে না ফিরলে যেন উৎসবের আনন্দই পূর্ণতা পায় না। তাই কষ্টকর যাত্রা হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে তারা প্রতিবছরই এই সময়ে বাড়ি ফেরেন। কেউ কেউ আবার কয়েকদিন আগেই এসে পড়েছেন, যাতে ভিড় ও যানজট এড়ানো যায়।

এদিকে ঘরমুখী মানুষের চাপ সামাল দিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি যাত্রীদের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও শহরের যানজট নিরসনে চাঁদপুর স্কাউট, রোবার স্কাউট এবং ক্লিন চাঁদপুর এর স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অপরদিকে চাঁদপুর শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের উপস্থিতি। ঈদের কেনাকাটা, খাবারদাবার ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন আগত যাত্রীরা। ফলে শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। সব মিলিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ফেরার আনন্দ, ব্যস্ততা ও প্রত্যাশায় এখন মুখর পুরো চাঁদপুর। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই ঢল যেন ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য ও পারিবারিক বন্ধনের শক্তিকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ঈদের আগের কয়েকদিন এ ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই যাত্রীদের আগে থেকেই পরিকল্পনা করে যাত্রা করা এবং নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/

১৯ মার্চ ২০২৬