চাঁদপুর

দুর্যোগে চাঁদপুর পৌর নির্বাচনের জন্যে অপ্রস্তুত ভোটাররা

আগামী ২৩ বা ২৪ আগস্ট চাঁদপুর পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসির)। এর আগে মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে এ পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত হয়। তবে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের এখনো উপযুক্ত সময় হয়নি বলে মনে করছেন সচেতন পৌরবাসী। মহামারী করোনা ভাইরাস, বন্যা ও বৃষ্টিতে শহরজুড়ে জলাবদ্ধতার কারনে পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।

এদিকে দিন দিন চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতায় রূপ ধারণ করছে। প্রতিদিন করোনা টেষ্টে রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত চাঁদপুরে ২০৭৯ জন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া জেলায় এ পর্যন্ত ৭৬জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। করোনা পরিস্থিতিতে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন পিছিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী। না হলে নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের ভিড়ে করোনাভাইরাস আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, আমরা প্রতিদিন চাঁদপুরের করোনা রিপোর্ট ন্যাশনাল টেকনিক্যাল কমিটিকে জানাই। বর্তামানে আগের তুলনায় চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, করেনো পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে অবশ্যই সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে। না হলে করোনা সংক্রামন বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বিষয়টি ন্যাশনাল টেকনিক্যাল কমিটির বিষয়। তারাই যাচাই বাছাই করে থাকে।

অন্যদিকে চাঁদপুরে মেঘনা-ডাকাতিয়ায় পানি প্রবাহ বিপদসীমার ওপরে। চাঁদপুরে ১২ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চাঁদপুরে মেঘনা-ডাকাতিয়ায় তীব্র জোয়ারে শুক্রবার সকাল ৬টায় ছিল ৪.৫৩ এবং ৯ টায় ৪.১৬ সে.মি.। মেঘনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চাঁদপুর শহরের রাস্তাঘাটসহ নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। অমাবস্যা, একাদশী’র প্রভাব আর অতিবৃষ্টিতে জোয়ারে মেঘনার পানি বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শাহ শো. শোয়েব জানান, সম্প্রতি সময়ে চাঁদপুর জেলায় সবচাইতে বেশী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় একদিন ৬৩ মিলিমিটার। গত কয়েকদিন ধরে চাঁদপুরে ঘুড়ি ঘুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। থেমে থেমে একই চিত্র একনো দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর ১১নং ওয়ার্ডের একজন জানান, বর্তমান সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে। একদিকে করোনাভাইরাস, বন্যা, বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সবকিছু সমাথায় রেখেই পৌরসভার নির্বাচন দেওয়া উচিত। ঝুৃঁকি নিয়ে কোন কিছুই করা ঠিক হবে না।

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ২১ আগস্ট ২০২০

Share