চাঁদপুর পৌরসভায় তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক আকিব
চাঁদপুর পৌরসভা কার্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক মোসাদ্দেক আল আকিব। তিনি অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা এডিশন এর চাঁদপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
অভিযোগ উঠেছে, তথ্য সংগ্রহের সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। এ সময় তার পেশাগত কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে মোসাদ্দেক আল আকিব চাঁদপুর পৌরসভার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে কার্যালয়ে যান। তিনি পৌরসভার প্রকৌশল শাখার কয়েকটি ফাইল ও বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর আওতায় তিনি লিখিত আবেদনও জমা দেন বলে দাবি করেন।
আকিবের সহকর্মী সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ জানান, আকিব ভাই তথ্য চাওয়ার পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে ঘিরে ধরে। প্রথমে তারা মৌখিকভাবে বাধা দেয়, এরপর ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি মারা হয় এবং তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
হামলার সময় আকিব তার মোবাইলে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিও ধারণ করায় হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পরপরই পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারী তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুমনা আক্তার জানান, রোগীর মাথায় ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ডান হাতের কব্জিতে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করি।
বর্তমানে ঢাকার পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন আকিব। তার পরিবার জানিয়েছে, মাথায় আঘাতের কারণে তার মাঝে মাঝে বমি হচ্ছে এবং প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। চিকিৎসকরা ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
আকিবের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভাইয়ের অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। ডাক্তার বলেছে, মাথার সিটিস্ক্যান রিপোর্ট আসার পর বোঝা যাবে ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে কিনা। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার দিন রাতেই আকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য পৌরসভায় চিঠি দেয়া হয়েছে। ফুটেজ পেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত চলছে। তবে ঘটনার তিনদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পৌর মেয়রের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। দোষীদের ছাড় দেয়া হবে না।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক এরশাদ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে পৌরসভার সচিব জানান, ঘটনার সময় আমি অফিসে ছিলাম না। পরে শুনেছি একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা নিজেরাও বিষয়টি তদন্ত করছি। সাংবাদিক আকিবের সঙ্গে যা হয়েছে তা কাম্য নয়।
তবে তথ্য না দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইনের নিয়ম মেনে আবেদন করলে আমরা অবশ্যই তথ্য দিই। হয়তো প্রক্রিয়াগত কিছুটা দেরি হয়েছে।
( সূত্র- চ্যানেল 24)
চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/৩০ এপ্রিল ২০২৬