চাঁদপুর শহরের চালু হলো নজরুল মিলনায়তন, সংস্কৃতির নতুন ঠিকানা
চাঁদপুর শহরের কবি কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে (সাবেক স্ট্যান্ট রোড) অবস্থিত সাবেক পৌর পাঠাগারটি নতুন রূপে গড়ে তোলা হয়েছে ‘কবি নজরুল মিলনায়তন’ হিসেবে। জেলা প্রশাসকের পরামর্শ এবং সাবেক পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিনের নির্দেশনায় সংস্কার ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষে মিলনায়তনটি সংস্কৃতি ও সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনের জন্য ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।
গত ১৭ আগস্ট চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ‘কবি নজরুল মিলনায়তন’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী ফলকে উপস্থিত হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
নতুন করে মিলনায়তন হিসেবে গড়ে তোলা হলেও ভবনটির নিচতলায় আগের মতোই পৌর পাঠাগারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাঠাগারটি প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। একজন নিয়মিত সহকারী লাইব্রেরিয়ানের তত্ত্বাবধানে পাঠাগারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জানা যায়, কবি নজরুল মিলনায়তনটি মূলত বিভিন্ন সভা, সেমিনার, আলোচনা সভা, জন্মদিন, বিবাহসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য ভাড়া দেওয়া হবে। এ বিষয়ে পৌরসভার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টার জন্য সাধারণ ভাড়া ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য রয়েছে বিশাল ছাড়। তা হলো যদি কেউ নজরুল মিলনায়তটি ভাড়া করে কোন সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান করে তাহলে শুধুমাত্র চাঁদপুর জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নামমাত্র ১ হাজার টাকা ভাড়ায় মিলনায়তন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চাঁদপুর পৌরসভার পৌর সচিব মো. নুর আজম বিন আখতার শরীফ জানান, চাঁদপুরের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন আয়োজনের জন্য ‘কবি নজরুল মিলনায়তন’ ভাড়া দেওয়া হবে। সভা, সেমিনার, আলোচনা, জন্মদিন, বিয়েসহ সাধারণ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টার জন্য ভাড়া ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চাঁদপুর জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নামমাত্র ১ হাজার টাকা ভাড়ায় মিলনায়তন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নির্ধারিত এক হাজার টাকা পৌর তহবিলে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এছাড়া বিশেষ দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠান জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিনা ভাড়ায় অথবা আলোচনার ভিত্তিতে মিলনায়তন ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রী খীসা জানান, সাবেক পৌর পাঠাগারটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঠাগারের মূল কার্যক্রমও চালু রাখা হয়েছে। ফলে একদিকে পাঠকদের জন্য পাঠাগার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি তাদের প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি নির্ধারিত স্থান ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে একটি উপযুক্ত মিলনায়তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়ে আসছিল। সেই প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে ‘কবি নজরুল মিলনায়তন’ চালু হওয়ায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিয়মিত অনুষ্ঠান, সভা, সেমিনার ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য নতুন একটি স্থান যুক্ত হলো। বিশেষ করে মাত্র এক হাজার টাকা ভাড়ায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মিলনায়তন ব্যবহারের সুযোগ রাখায় স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬