Home / চাঁদপুর / চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনায় মোস্তফা খান সফরী
জেলা পরিষদের

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনায় মোস্তফা খান সফরী

চাঁদপুর জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মোস্তফা খান সফরীর নাম। চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে বিএনপির পছন্দের তালিকায় রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম এই সদস্য। এ নিয়ে বিএনপির সেন্ট্রাল কমিটি থেকে শুরু করে চাঁদপুরে  দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ মোস্তফা খান সফরী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ধাপে ধাপে নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতিতে সাংগঠনিক দক্ষতার ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মোস্তফা খান সফরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আবাসিক ছাত্র হিসেবে ছিলেন। তৎকালীন সময়ে শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন।

মোস্তফা খান সফরী ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর সদর উপজেলার সফরমালী হাইস্কুল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর সুদীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির জীবনে তিনি চাঁদপুর কলেজের শহীদ জিয়া ছাত্রাবাস শাখা, ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক (১৯৮৭) চাঁদপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারন সম্পাদক (১৯৮৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (১৯৮৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য (১৯৯১-৯২), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯৩-১৯৯৭)। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত এ জি এস প্রার্থী (১৯৯৩), ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য (১৯৯৬-১৯৯৭, ১৯৯৭-১৯৯৯), কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক (১৯৯৯-২০০১, ২০০৩-২০০৪), চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক টীম লিডার (২০০৩-২০০৪) (২০০৪-২০০৮), কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (২০০৪-২০০৮)সহ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেন। এরফলে তিনি একজন পরিচ্ছন্ন এবং দক্ষ ছাত্র নেতা হিসেবে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

পরবর্তীতে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে মোস্তফা খান সফরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর সদর উপজেলা ও জেলা শাখার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্য, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং সবশেষে সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্বে ছিলেন।সবশেষ তিনি ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দলীয় শৃঙ্খলা এবং আদর্শের প্রতি আনুগত্য থেকে তিনি চাঁদপুরের ৫টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে বিরামহীন নির্বাচনী প্রচারণা করেন‌। যা সকল প্রার্থীদের কাছে তথা বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা খান সফরী চাঁদপুর জেলা বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। জেলার বিভিন্ন ইউনিটে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্বাচন পরিচালনাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর রাজনীতিতেও সক্রিয় থেকেছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পেলে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে তার সুসম্পর্ক ও মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরীর বলেন, আমি বিএনপির একজন কর্মী। ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় আদর্শ এবং শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি করে আসছি। তাই দল আমাকে যখন যে দায়িত্ব দিবে, সেটি আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবো‌। জেলা পরিষদ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে অবশ্যই সৎ, আদর্শবান এবং শিক্ষিত লোক প্রয়োজন। তাতে রাষ্ট্র এবং জনগণের আমানতের খেয়ানত হবে না।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৫ মার্চ দেশের ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তদের সবাই কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের বিএনপির নেতা। এ ক্ষেত্রে সাবেক পরিচ্ছন্ন ছাত্র নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে দুই দফায় ১১ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয় সরকার। এ অবস্থায় চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে সাবেক সফল ছাত্রনেতা মোস্তফা খান সফরীর নামটি সামনে আসায় বিষয়টি চাঁদপুরের রাজনীতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনাই বলে দিবে কে হচ্ছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক। 

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
১৭ মার্চ ২০২৬