চাঁদপুর

চাঁদপুর-কুমিল্লা ৫৪ কি.মি. সড়কের বেহাল দশা : অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানের শত-শত যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি ও জীবন বাঁজি রেখে। প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে যানবাহন ও যাত্রী সাধারণ।

এই ৫৪ কি.মি রাস্তা পাড়াপাড় করতে বিগত দিনে চালকদের ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময় লাগতো। বর্তমানে চাঁদপুর কুমিল্লা সড়কটি পাড়ি দিতে সাড়ে ৩ ঘন্টা সময় লাগছে। এতে করে যাত্রী সাধারণ তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এছাড়া যাত্রীবাহী যানবাহনগুলি বড় বড় অসংখ্য গর্তের মধ্যে পড়ে আবার উঠতে গিয়ে যানবাহান দুই দিকে টলমল করে দুর্ঘটনার পতিত হচ্ছে।

মালবাহী যানবাহনগুলি মালামারের ভারে গর্তের মধ্যে পড়ে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। ইটের সুরকিগুলো এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পিচ ঢালাই উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে করে যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের ৫৪ কিলোমিটারের রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে এমন বেহাল অবস্থা চলছে এ সড়কে।

অথচ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ সড়ক দিয়ে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর- রামগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের হাজার-হাজার মানুষ প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে থাকে।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত রাস্তায় শতাধিক ছোট-বড় খাদ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন এ রাস্তায় কোন ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহন। বিশেষ করে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড তেলের পাম্পের সামনের অংশ, বাগমারা বাজার, আলীশ্বর বাজার, বিজরা, মুদাফ্ফরগঞ্জ বাজার, জগৎপুর, উয়ারুক, হাজীগঞ্জের কিছু অংশ, বাকিলা, মহামায়া, ওয়ারলেস বাজার, চেয়ারম্যানঘাট, ষোলঘরসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে।

এসব জায়গার গর্তগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান গাড়িচালক ও যাত্রীরা। এর মধ্যে সামান্য বৃষ্টি হলেই জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে বলে তারা জানান। কারণ গর্তগুলো বড় বড় হওয়ায় এবং পিচ ঢালাই উঠে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি আটকে বড় ধরনের জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এতে প্রায় সময় ভারী যানবাহন দেবে ও বিকল হয়ে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়। ছোট যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। প্রতিনিয়তই ঐসব দুর্ঘটনায় মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরগামী বোগদাদ বাসচালক আবদুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ রাস্তাটি গত কয়েক বছর ধরেই এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারে স্থায়ী কোনও উদ্যোগ নেই।

এ কারণে বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বড় বড় খাদগুলোতে আটকে পড়ার কারণে অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে যায়। তাই এ রাস্তাটি পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করার দাবি জানায় তারা।

নিয়মিত যাতায়াতকারী কুমিল্লার এক কলেজ শিক্ষক বলেন, রাস্তার অবস্থা নাজুক হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এ বিষয়ে যেন কারও কোনও মাথা ব্যথা নেই।

চাঁদপুর জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন রাস্তটি সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে বর্ষা আসলে জোড়াতালি সংস্কার কাজ করা হয় যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদক- শরীফুল ইসলাম
: : আপডেট, বাংলাদেশ ১১: ৫৩ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বুধবার
ডিএইচ

Share