চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলায় প্রায় ১৫টি জ্বালানি তেলের বৈধ ফিলিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও সবগুলোতেই এখন মোটর চালকদের তেলের জন্য হাহাকার নিয়ে দীর্ঘ লাইনে থাকতে হচ্ছে। কোন কোন তেলের পাম্পে ইতিমধ্যেই অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি সাইনবোর্ড লাগিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। ২/৩টিতে তেল বিক্রি হচ্ছে মোটরসাইকেল প্রতি ২শ’ টাকা করে। আর এতেই ঘন্টার পর ঘন্টা সোনার হরিণের মতো তেল নিতে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে মোটর সাইকেল চালকদের। শনিবার(২৮ মার্চ) দিনব্যাপী শহর ঘুরে তেলের পাম্পের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এমন পরিস্থিতিই দেখা যায়। শহরের জেলা পরিষদ সংলগ্ন তেলের পাম্প শারমিন ফিলিং স্টেশনে গত ২ দিন যাবৎ পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রয়েছে। একই চিত্র জেলা শহরের বাইরের তেলের পাম্পের ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। আবার ২/৩টিতে তেল দিনে মিললেও রাতে তেল বিক্রি বন্ধ থাকছে।
চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস বাজারে টোলঘরের বিপরীত পাশে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টং দোকানীকে অকটেন বিক্রি করতে দেখা যায়। তিনি প্রতি লিটার অকটেন বিক্রি করছেন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। তিনি জানান, আমি ১৩৩ টাকা দরে লিটার প্রতি গভীর রাতে তেল কিনছি। আমাদের সাথে ডিপো ও ফিলিং স্টেশনের সাথে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ তেল না পেলেও আমরা পাচ্ছি এবং বিক্রি করছি। শহরের আমির হোসেন অ্যান্ড কোম্পানি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতি মোটরসাইকেলের জন্য মাত্র ২ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ করে রেশনিং করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমির হোসেন অ্যান্ড কোম্পানি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন বলেন, দেশে তেলের সংকট চলছে, তাই রেশনিং নিয়মেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তেল সংকটের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ লোকমান হোসেন। তিনি জানান, ডিপোসহ কোথাও জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদউদ্দিন জানান, আমাদের জেলা শহরে তেলের তিনটা ডিপো রয়েছে। পদ্মা-মেঘনা ও যমুনা। এগুলো থেকে চাঁদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আরও ৪ জেলায় তেল সরবরাহ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ হতে আমরা জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে নজরদারি করছি। মোবাইল কোর্টও প্রয়োজনে পরিচালনা করছি। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে বিষয়টি সেভাবেই দেখা হচ্ছে। অযৌক্তিকভাবে কোনো ফিলিং স্টেশন তেল আটকে রাখলে বা রেশনিং করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসান বলেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদের কোন নির্দিষ্ট তথ্য থাকলে, অথবা কেউ যদি বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে এদের তথ্য আমাদেরকে দিলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। তথ্য প্রদানকারীর নাম ঠিকানা অবশ্যই আমরা গোপন রাখবো।
চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
২৯ মার্চ ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur