চাঁদপুরে থামছে না মাটিখেকো ভেকুর তাণ্ডব, ৫টি ভেকু বিকলসহ আটক ২

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১১নং ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে নদী তীরবর্তী চরগুলোতে মাটিখেকো ভেকুর (এক্সকাভেটর) সন্ত্রাসের তাণ্ডবে সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার নামার পর থেকেই এইসব যন্ত্রদানব ভেকুর আঘাতে কেঁপে উঠে ওই এলাকার বিস্তির্ণ কৃষিজমি। সেখান ঝিল কেটে প্রজেক্ট করার নামে কৃষিজমি দখল এবং জমির টপসয়েল বিক্রি করার উৎসবে মেতেছে একটি চক্র।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ৫টি ভেকু বিকলসহ ২ জনকে আটক করা হয়। আটকৃকৃতরা হলেন ভেকুর শ্রমিক হাফেজ মাল (৩৮) ও গোলাম রাব্বানী (৩০)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইনে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনি।

তিনি জানান, অভিযানে কৃষিজমি কাটার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা (এক্সকাভেটর) ভেকুগুলো বিকল করে দেওয়া হয় এবং ২জন শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী একাধিক কৃষকরা জানান, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চালিতাতলী মৌজার চরে বহুকাল ধরে মানুষ কৃষিকাজ করে আসছেন। কৃষিনির্ভর এসব চরে প্রতি মৌসুমে সরিষা, আলু, ধনিয়া, কালিঝিড়া, ধানসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির চাষ হয়ে থাকে। চরগুলো এলাকার মানুষের জীবিকা ও খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এইসব চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ এই কৃষি কাজের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্ভর করেন।

তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি পাশ্ববর্তী শরিয়তপুর জেলার মমিন দিদার, স্থানীয় শাসন গাজী, আবু তাহের গোলদার, বিল্লাল গাজী, হারুন হাওলাদার, হানিফ, কাদির ছৈয়াল, রফিক মল্লিক, ইকবাল পাটোয়ারীর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র ফসলি জমি নষ্ট করে এসব চর কেটে দখলের মাধ্যমে প্রজেক্ট তৈরির করছে। এজন্য তারা বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক এনে ৫ থেকে ১০টি ভেকু দিয়ে ফসলী জমির টপসয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং সদর উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর মাটি কাটা এবং চর দখলকারি চক্রটি ভুক্তভোগী কৃষকদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি জানান, সরকারি জমি ও চর দখলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম,
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬