চাঁদপুরে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

চাঁদপুরে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সহায়তা কেন্দ্র, চাঁদপুরের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
সকালে চাঁদপুর বধির ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চাঁদপুর শিশু পরিবারের মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা “ইশারা ভাষার ব্যবহার, বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার” শীর্ষক বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন।

র‍্যালি শেষে চাঁদপুর শিশু পরিবারের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো ইশারা ভাষা, যা তাদের শিক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ নয়, বরং এটি একটি ভিন্ন সক্ষমতা। সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সরকারি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হ্যাপি আক্তারের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাদিরা নূর, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সল, তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ছায়েদ উদ্দিন এবং সাংস্কৃতিক কর্মী পি. এম. বিল্লাল হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রশিক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন কুমার নন্দী।

আলোচনা সভা শেষে প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আয়োজকরা জানান, দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি হবে বলে তারা আশাবাদী। 

প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬