চাঁদপুরে পানির অভাবে ধানক্ষেত ফেটে চৌচির , দিশেহারা কৃষক

চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রানিরহাট পূর্ব গুলিশা গ্রামের গুলিশা খালে পানি না থাকায় ইরি ধানের জমিগুলো ফেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ একর জমিতে ধান আবাদকারী কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত খালে পানির ব্যবস্থা করা হউক। তাহলে জমিতে পানি দেয়া যাবে। তা না হলে জমি ফেটে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, নদীতে পানি কম। কয়েক দিনের মধ্যে নদীতে পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিন রানিরহাট পূর্ব গুলিশা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ আবাদি জমি ফেটে চৌচির হয়ে আছে। আবার অনেক জমির ধান পানি না থাকায় লালচে হয়ে আছে। জমিগুলোতে নির্ধারিত সময়ে পরিচর্যায় সার ও কীটনাশক ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। মাঠে ধান আবাদ করেছেন বহু কৃষক। এর মধ্যে মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিজির ৩, হাফিজ উল্লাহ গাজীর ৩, মিজানুর রহমান খানের ৫, বাদশা বেপারীর ৪, আঃ হান্নাের ৫ ও মুনসুর মিয়ার ১০সহ প্রায় ৩০ একর জমিতে ধানের আবাদ হয়।

কৃষক মিজানুর রহমান খান বলেন, মাঘ মাস থেকে ইরি ধান রোপন শুরু হয়। আর ফাল্গুন মাস শুরু হয়ে গেছে। পানির অভাবে আমরা ধান চাষ করতে পারছি না। কোন সরকারী লোক এসে আমাদের খবরও নেয় না। আমাদের কৃষকদের বাঁচান।

কৃষক মুনসুর জানান, পানির কারনে ২৮-২৯ ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিস্তিতে আমরা জর্জরিত। খালে পানি নাই।

কৃষক বাদশা বেপারী বলেন, অনেকে পুকুর থেকে সেচপাম্প দিয়ে পানি দিলেও তা পর্যাপ্ত হচ্ছে না। এখন পুরো মাঠের জমিগুলো ফেটে আছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি না দিলে পুরো মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে এবং কৃষকদের পথে বসতে হবে। এখন পুকুরেও পানি নেই।

চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, খোঁজখবর নিয়েছি, নদীতে পানি কম থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।

প্রতিবেদক: মাজহারুল ইসলাম অনিক,
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬