চাঁদপুরে জাটকা নিধন প্রতিরোধ মাধ্যমে অনন্য অবদান রাখেন এহছানুল হক মিলন
চাঁদপুরে জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা এবং এতে এহছানুল হক মিলনের অবদান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর চাঁদপুরকে কেন্দ্র করে জাটকা রক্ষার এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
চাঁদপুরে জাটকা নিধন বিরোধী আন্দোলনের সূচনা মূলত ২০০১-২০০২ সালের দিকে। এর আগে বিক্ষিপ্তভাবে জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও কোনো বড় ধরনের সামাজিক আন্দোলন বা সরকারি কঠোর নজরদারি ছিল না।
তৎকালীন চাঁদপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে এহছানুল হক মিলন নিজ উদ্যোগে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ আন্দোলন’ শুরু করেন।
তখন জেলেদের সচেতন করতে তিনি সরাসরি মেঘনা নদীর পাড়ে এবং চরাঞ্চলে গিয়ে প্রচারণা চালান। তিনি “জাটকা ধরলে হবে সাজা, ইলিশ হলো মাছের রাজা” এই ধরনের স্লোগান জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রাখেন।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কিন্তু তখন তিনি জাটকা রক্ষায় অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তিনি কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজে স্পিডবোটে করে মেঘনা নদীতে টহল দিতেন এবং অবৈধ জাল (কারেন্ট জাল) জব্দ করার অভিযানে নেতৃত্ব দিতেন।
চাঁদপুরকে কেন্দ্র করে জাটকা রক্ষার যে মডেল তিনি তৈরি করেছিলেন, পরবর্তীতে তা জাতীয়ভাবে “জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ” পালনে সরকারকে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি জেলেদের জাটকা ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকারি সহায়তার (ভিজিএফ চাল) বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেন, যাতে জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময় খেয়ে-পরে থাকতে পারে।তার এই কঠোর এবং সরাসরি তদারকির কারণেই সে সময় চাঁদপুরে জাটকা নিধন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছিল, যার সুফল হিসেবে পরবর্তীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশে জাটকা (১০ ইঞ্চির কম বা ২৩ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট ইলিশ) সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২০০২ সাল থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এহছানুল হক মিলনের সেই অবদানের কারণে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও নৌবাহিনীর সহায়তায় জাটকা নিধন রোধের ফলে ইলিশ উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাটকা সংরক্ষণের আইনি ভিত্তি হবে ‘ ১৯৫০’ দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মাছের বংশবৃদ্ধি ও সম্পদ রক্ষায় এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়।
এর পর ১৯৫০ সালের মূল আইনকে কার্যকর করতে ১৯৮৫ সালে ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা’ তৈরি করা হয়। এই বিধিমালার মাধ্যমেই জাটকা ধরার ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং জালের ফাঁসের আকার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
কিন্তু আইনটি তৎকালীন সময়ে কখনো যথাযথভাবে প্রয়োগ করা যায়নি।
মূলত: ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং মৎস্য অধিদপ্তর সম্মিলিতভাবে ‘অপারেশন জাটকা’ শুরু করে। এটি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক ছিল, যার মাধ্যমে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় জাটকা নিধন রোধে কঠোর নজরদারি শুরু হয়। শুরুতে জাটকার আকার আরও ছোট ধরা হতো। কিন্তু ২০১৪ সালে একটি গেজেটের মাধ্যমে জাটকার দৈর্ঘ্য ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করে আইনটি আরও যুগোপযোগী করা হয়।
তখন থেকে সাধারণ মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতে এবং সচেতনতা বাড়াতে সরকার প্রতি বছর জাতীয়ভাবে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ’ পালন শুরু করে, যা বর্তমানে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
মূলত মাছের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় মাছ ইলিশের অস্তিত্ব রক্ষা করাই ছিল এই আইনটি শুরু করার প্রধান উদ্দেশ্য। যার বাস্তব আন্দোলন ও আইনের প্রয়োগ শুরু হয় আজকের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম এহছানুল হক মিলনের হাত ধরেই।
প্রতিবেদক: এম. ফরিদুল ইসলাম/
৬ এপ্রিল ২০২৬