চাঁদপুর সদরে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে হাঁকডাক দিয়ে ভ্যানগাড়ি করে মা ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষা করার জন্য নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এবং কোস্টগার্ড সারারাত অভিযান অব্যাহত থাকলেও কিছু জেলে নদীতে নেমে মা ইলিশ শিকার করছে।
এতে প্রশ্ন থেকে যায় এত পদক্ষেপ পরও কি আমরা মা ইলিশ মাছ ধরা রোধ করতে পেরেছি। মা ইলিশ রক্ষা করার জন্য যত প্রকার নিয়মকানুন প্রয়োজন মৎস্য অধিদপ্তর থেকে তাই করা হচ্ছে। জাল-ট্রলারসহ জেলেদেরকে প্রতিদিনিই আটক হচ্ছে। সেখানে জাল আটক করে পুড়িয়ে ফেলা হয়, অন্যদিকে ইলিশ মাছ আটক করে গরিব অসহায় এবং বিভিন্ন এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া হয়। জেলেদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল- জরিমানা করা হয়। কিন্তু এতকিছুর পরও কি জেলেদেরকে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে পেরেছি।
কারণ হিসেবে অনুসন্ধানে জানা যায়, নৌ পুলিশের সাথে কিছু জেলেদের সখ্যতা রয়েছে। যার ফলে উক্ত জেলেরা নিশ্চিন্তে এবং দিব্যি আরামে কোন প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া ট্রলার দিয়ে মা ইলিশ ধরছে এবং বিক্রিও করছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর লালপুর নদীর পাড়ে সকাল ১০টার পর দুপুর অব্দি জেলেরা ট্রলারে করে মাছ ধরে নিয়ে আসছে। এই সমস্ত তরতাজা ইলিশ মাছ কেনার জন্য সেখানে রয়েছে বেশ কিছু কাস্টমার। এছাড়া বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে মাছ বিক্রি করার জন্য পাইকারি এসে মাছ কিনে নিচ্ছে। উক্ত পাইকারীরা মাছ বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে ভ্যান গাড়িতে করে বিক্রি করছে।
একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপ করলে জানা যায়, প্রতিদিন এখানে ইলিশ মাছ বিক্রি করা হলেও কোন প্রকার অভিযানে প্রশাসনের কোন লোকদেরকে দেখা যায় না। নৌ পুলিশের সাথে জেলেদের এই সমস্ত গোপন সম্পর্ক যতদিন পর্যন্ত বন্ধ না হবে ততদিন পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব নয়।
মা ইলিশ রক্ষা করতে হলে প্রথমত নৌ পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে এবং তাদের পিছনে আরো একদল পুলিশের টিম লাগিয়ে রাখতে হবে যাতে করে অসৎ নৌ পুলিশ কর্মকর্তারা অবৈধ জেলেদের সাথে কোন প্রকার লেনদেন করতে না পারে।
এ ব্যাপারে মৎস্য অধিদপ্তরকে কঠোর নজরদারি দিতে হবে তাহলেই মা ইলিশ রক্ষা এবং এর প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে পারবে।
স্টাফ করেসপন্ডেট/
১৯ অক্টোবর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur