আন্তর্জাতিক

গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে সৌদি নারীর র‌্যাপ গান ভাইরাল

সম্প্রতি সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।ঐদিনই সৌদি আরবের গায়িকা লিসা এ (সামাজিক মাধ্যমের নাম) গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে একটি র‍্যাপ সঙ্গীত রেকর্ড করে সেই ভিডিও তুলে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

গানের কথা এরকম , আমাকে কেউ নিয়ে যাবে, তার আর দরকার নেই…আমার সাথে রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স।’ একটি হুন্দাই গাড়ির ড্রাইভিং সিটে এসব কথা র‍্যাপ সঙ্গীতের সুরে গেয়ে গানটি রেকর্ড করেন। তারপর তা তুলে দেন ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে।

২৪জুন সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ওঠে। ঐ সৌদি নারী র‍্যাপার তার উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে মুহূর্তও দেরি করেননি।

লিসা এ’র ঐ মিউজিক ভিডিও কয়েক দিনে ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামে ১৬ লাখ বার দেখা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ঐ সৌদি নারী র‍্যাপার গাড়ি চালাচ্ছেন, এ্যাক্সিলেটরে চাপ দিচ্ছেন, গিয়ার বদলাচ্ছেন এবং সেই সাথে উচ্ছল ভঙ্গিতে গান গেয়ে চলেছেন। গানের সুরে তিনি গাইছেন, ‘আমি রসিকতা করছিনা, আমি আজ গাড়ি চালাতে পারি। স্টিয়ারিং আমার পায়ের নিচে…. পেডাল আর আমার আবায়ার ওপর দিয়ে সিট বেল্ট…’

লিসাএ’র মিউজিক ভিডিও নিয়ে করা একটি টুইট শেয়ার হয়েছে এক লাখেরও বেশি। যে টুইটে এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে, তা তিন লাখ লাইক পেয়েছে, শেয়ার হয়েছে এক লাখেরও বেশিবার।

লিসা তার গান শেষ করেছেন অন্য পথচারীদের লিফট দেওয়ার প্রস্তাবের সাথে। কিন্তু সাবধান করেছেন, ‘খবরদার জোরে দরজা বন্ধ করো না, আমি তাহলে তোমাকে সিটবেল্ট দিয়ে বেঁধে ফেলবো।’

নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। রোববার থেকে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীরা গাড়ি চালাচ্ছেন। এটা রক্ষণশীল দেশটির জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রিয়াদ নগরীতে জন্মগ্রহণকারী এক নারীকে তার অনুভূতি সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার নাম সামার আলমোগরেন। আমি একটি টকশো’র উপস্থাপিকা ও লেখিকা।’

তিনি আরো বলেন, ‘বহুদিন পর আমি আমার মুখ থেকে নিকাব সরালাম। প্রথম যেদিন আমি টেলিভিশনে আমার চেহারা দেখানোর সিদ্ধান্ত নেই। আমার পরিবারের সবার কাছ থেকে সমর্থন পাইনি। আমার এই সিদ্ধান্তে আমার ভাইয়েরা খুবই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু আমার বাবা সবসময়ই আমার পাশে ছিলেন। তিনি আমার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমাকে সমর্থন করেছেন। একমাত্র তিনিই আমার বিদেশে লেখাপড়ায় সমর্থন দিয়েছেন।’

সামার বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন দেশে আমি গাড়ি চালিয়েছি। আমার আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু নিজের দেশে, নিজের শহরে গাড়ি চালানো অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ অন্যরকম।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মূলত গাড়ি চালাতে অপছন্দ করি। কিন্তু এটা ভিন্ন ইস্যু। এখানে আমার অধিকারের প্রশ্ন। গাড়ি চালানো, বা না চালানোটা আমার একান্ত নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। আমার ইচ্ছে হয়ে চালাবো, ইচ্ছে না হলে চালাবো না।’

এই প্রত্যয়ী নারী বলেন, ‘উত্তেজনায় আমার সারা শরীর এখন কাঁপছে। খুব খুশির অন্যরকম একটা অনুভূতি। আমার আমার গাড়িতে বসে স্টিয়ারিং হুইল ধরবো। আমাকে এতোদিন দেশে গাড়ির পেছনের আসনেই বসতে হতো। এখন আমি চালকের আসনে বসতে পারবো। আমি আত্মনির্ভরশীল একজন নারী।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানতাম একদিন না একদিন আমার দেশে নারীদের গাড়ি চালানো অনুমতি দেয়া হবে। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি আকস্মিকভাবে অনুমতি দেয়া হবে ভাবতেই পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিদেশে গাড়ি চালিয়েছি। আমার আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। তাই ইতোমধ্যে সবাই (নারীরা) আমাকে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেছেন। অনেকে আমার গাড়িতে চড়ে কফিশপে যাবারও ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। আমি আমার মাকে আমার গাড়িতে চড়াবো, ভাবতেই খুব ভালো লাগছে। আমার মা এই বয়সে গাড়ি চালাবেন না। আমি ও আমার বোনেরা আমাদের গাড়িতে করে তাকে বেড়াতে নিয়ে যাবো।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালাতে পারবো। সে বিশ্বাস করবে আমি তাকে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমি সবসময় গাড়িতে তার সাথে থাকছি।’

সাদা শান্তির পোশাক। সামার তাই আজ রাতে এই পেশাকটি বেছে নিয়েছেন। তিনি নিজেকের পাখি নয়, প্রজাপতি ভাবছেন। মুক্ত স্বাধীন।

ভিডিও

Share