Home / বিনোদন / প্রসঙ্গ : ` সাত ভাই চম্পা ‘ গান
shat ---

প্রসঙ্গ : ` সাত ভাই চম্পা ‘ গান

সাত ভাই চম্পা বা সাত ভাই চাম্পা হলো বাংলা বা বঙ্গীয় অঞ্চলে জনপ্রিয় একটি রূপকথার গল্প। গল্পটি অনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯০৭ সালে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলি নামক রূপকথার বইয়ে। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন। ১৯৪৪ সালে বিষ্ণু দে কর্তৃক গল্পটি পুনরায় বিস্তারিতভাবে সাত ভাই চাম্পা নামে প্রকাশিত হয়েছিল। সাত ভাই চম্পার গল্প অবলম্বনে বেশ কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মীত হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাত ভাই চম্পা চলচ্চিত্রটিকে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট সর্বকালের সেরা দশটি বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

কাহিনীসংক্ষেপ

এক দেশে এক রাজা ছিল ও তার ছিল ৭ রাণী। রাজা পরপর ৭টি বিয়ে করেছেন কিন্তু কোনো রাণীর ঘরেই কোনো সন্তান হয় নি। এ নিয়ে রাজার মনে অনেক দুঃখ। শুধু রাজাই নয়, রাজ্যের সকল প্রজাদের মাঝেও অসন্তোষ। একদিন রাজা স্বপ্নে জানতে পারলেন, আরো একটি বিয়ে করলে সপ্তম বিবির ঘরে আসবে সন্তান।

সন্তানের আশায় তিনি বিয়ে করলেন আবার। নতুন বিবি ঘরে এনেছে দেখে আগের ছয় বিবির গায়ে জ্বালা উঠে যায়। আগের রাণীদের ছয় জনই খুব অহংকারী, দেমাগী। ছোট রাণী খুব শান্ত ও নম্র। এ জন্য রাজা ছোট রাণীকে বেশি ভালোবাসতেন। ফলে ছয় রাণীর চোখের বিষ হয়ে যায় ছোট রাণী। একদিন খবর আসে ছোট রাণী সন্তানসম্ভবা। এই খুশিতে প্রজাদের জন্য রাজকোষ এবং রাজভাণ্ডার খুলে দেন রাজা। সেখান থেকে প্রয়োজন মতো অর্থ ও সম্পদ নিতে পারবে প্রজারা। দেখতে দেখতে জন্মের সময় চলে এলো। আতুর ঘরে রইলেন ছয় রাণী এবং একজন গৃহপরিচারিকা। বাইরে সন্তানের মুখ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন রাজা।

অজ্ঞান অবস্থায় ছোট রাণী সাতটি ছেলে এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। হিংসুটে ছয় রাণী চক্রান্ত করে জন্মের পরপরই মেয়ে ও ছেলেগুলোকে সরিয়ে ফেলে। কাঁচা মাটির পাত্রে ভরে তাদেরকে পুতে দেয় প্রাসাদের পেছনের বাগানে এবং জানায় রাণীর গর্ভে সাতটি ব্যাঙ ও একটি ইঁদুর জন্মগ্রহণ করেছে। রাজা খবর শুনে রেগে গিয়ে ছোট রাণীকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দেন।

এভাবে চলতে থাকে, দিন দিন খাঁ খাঁ করতে থাকে রাজবাড়ি। একদিন রাজ বাগানের মালী এসে জানায় পূজা দেবার জন্য বাগানে যথেষ্ট ফুল নেই। একটি গাছে শুধু সাতটি চম্পা আর একটি পারুল ফুল আছে। রাজা বললেন, এগুলোকেই নিয়ে আসো। মালী ফুল আনতে গেলে তারা হাতের নাগালের বাইরে উপরে উঠে যায়। মালী আবারো ধরতে গেলে বলে, রাজা না আসলে এই ফুল ছিঁড়তে দেবে না। এমন অদ্ভুত ঘটনা শুনে রাজা সাথে সাথে চলে আসলেন। আসার পর তারা আবার জানায়, বড় রাণী না আসলে ফুল দেবে না। বড় রাণী আসার পর জানায়, মেজ রাণী না আসলে দেবে না। মেজ রানী আসলে আবার জানায় সেজ রাণী দাবী। এভাবে সকল রাণী আসার পর সাতটি চম্পা ফুল বলে বনবাসে যাওয়া দুঃখী ছোট রাণী না আসলে কাউকে ফুল ছিঁড়তে দেয়া হবে না। ঘোড়সওয়ার পাঠিয়ে বন থেকে খুঁজে বের করে আনা হলো ছোট রাণীকে।

ছোট রাণীর গায়ের কাপড় ছেড়া। এ বেশেই ফুল তোলার জন্য হাত বাড়ালেন, আর অমনিই কোলে নেমে আসে সাতটি রাজপুত্র আর একটি রাজকন্যা। মানবরূপ ধারণ করার সাথে সাথেই তারা মা মা বলে ডাকা শুরু করলো ছোট রাণীকে। পুতে দেবার ফলে তারা মরে যায়নি, বাগানের ফুল হয়ে বেঁচে ছিল এতদিন। এরপর তারা ছয় রাণীর অপকর্মের কথা বললেন রাজাকে। এমন অমানবিক কাজের কথা শুনে ছয় রাণীকে কাটা দিয়ে পুতে ফেলার আদেশ দিলেন রাজা। এরপর রাজা সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে লাগলেন এবং রাজ্যেও অপয়া কেটে গিয়ে বিরাজ করতে লাগলো সুখ। তথ্য সুত্র : বাঙলা উইকিপিডিয়া


চাঁদপুর টাইমস
১ এপ্রিল ২০২৫
সম্পাদনা-আবদুল গনি