ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে খেলা চলমান রাখার দাবি খেলোয়ারদের

চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে সকল ধরনের খেলা চলমান রাখার দাবি খেলোয়ারদের। ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুর স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেটকে বঞ্চিত করা যাবে না, ক্রিকেটের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং ফুটবল ও ক্রিকেট উভয় খেলাকে সমানভাবে পরিচালনা করতে হবে এই মর্মে চাঁদপুরের সকল ক্রিকেটার, কোচ সংগঠক ও ক্রীড়াপ্রেমী জনতা একত্রিত হয়। পরে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন জনু, সদস্য আনোয়ার হোসেন মানিকের সাথে বৈঠকে বসেন।

এ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর আহমেদ হাসান আল জায়েদ রিফাই, কোয়াব চাঁদপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রানা, ইনচার্জ মোরসালিন খান, সদস্য সাদ্দাম হোসাইন, আল ফাহাদ, সাদ্দাম হোসেন মিঠু, ফয়সাল হোসেন নকীবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর স্টেডিয়াম মাঠের নিয়মিত ক্রিকেটার সাদ্দাম হোসেন বলেন, শুনেছি যে ঢাকার একটি স্বনামধন্য ফুটবল একাডেমি আগামী ৮ মাস চাঁদপুর জেলায় স্টেডিয়াম টি ব্যবহার করবে, যেহেতু সামনে আমাদের ক্রিকেট মৌসুম আমরা জানি যে নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে ক্রিকেট হয় তো আমরা মাঠে ক্রিকেট খেলতে পারব কিনা আমরা ক্রিকেটাররা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি, এই কারণে আমরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে কথা বলেছি, উনারা আশ্বাস দিয়েছেন ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ যারা আছে এমপি মহোদয় এবং ডিসি ও ফুটবল ফেডারেশনের সাথে কথা বলে উনারা আমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় দিবে আমরা যেন মাঠে ঠিকমতো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং লীগ ও অন্যান্য এইচ গ্রুপে যে খেলা গুলো রয়েছে সেটা যেন আমাদের সময়মতো মাঠে গড়ায় উনারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমাদেরকে জানাবেন।

কোয়াব চাঁদপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রানা বলেন, আজকে আমাদের দাবি ছিলো আমাদেরকে যে ম্যাসেজটি দেওয়া হয়েছে আমাদের চাঁদপুর জেলায় স্টেডিয়ামটি ঢাকার সুনামধন্য একটি ফুটবল ক্লাব কে দশ মাসের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে এনএসসি এর মাধ্যমে। এই কারণেই আমরা আমাদের ক্রিকেট প্লেয়ারদের উদ্যোগে দাবি নিয়ে এসেছি, আজকে আমরা ক্রীড়া সংস্থার সাথে এ বিষয়ে দেখা করেছি কথা বলেছি, তারপর ক্রীড়া সংস্থা সেক্রেটারি আমাদের যে আশ্বাস দিয়েছে তাই আমরা আশা করি ওনার আশ্বাসে সেই ফিটব্যাক পাবো। আমরা আশাবাদী যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটার ফিডব্যাক পাব। আমরা আশা করি তিনি এ বিষয়টি নিয়ে এমপি মহাদয় ও জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলবেন, আমরা এখন আপাতত তাদের সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি, যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটা সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের আগামী কার্যক্রম এর সিদ্ধান্ত নিব।

তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন আমরা লিখিত একটি অ্যাপ্লিকেশন দিতে, সেটা যেন আমরা আমাদের এমপি বরাবর দিতে পারি এবং এমপি বরাবর গিয়ে যেন দেখা করে কিছু বলতে পারি। আমাদের সমস্যা গুলো এর কথা এ ৮ মাসের মধ্যে যেন আমাদেরও ক্রিকেটের কিছু সিজন থাকে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে ফুটবলের পাশাপাশি যেন আমরা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলতে পারি। আমাদের চাঁদপুরের প্লেয়াররা যেন অংশগ্রহণ করতে পারি আমাদের এমপি মহোদয় যেন এই বিষয়টি আমাদের ওপেন করে দেয়।

চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন জনু বলেন, কোয়াব একটি ক্রিকেট সংগঠন আছে আজ থেকে চার মাস আগে ওনারা এসে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াটি আমার কাছে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছে। কোয়াবের খেলা পরিচালনার জন্য মাঠ টি বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু বিগত চার মাস হয়ে গিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তারা খেলা আয়োজন করতে পারেনি। এর মাঝখানে ঢাকার একটি সুনামধন্য ফুটবল ক্লাব তাদের ফেডারেশন কাপ এবং প্রিমিয়ার লিগ এর জন্য একটি ভেন্যু লাগবে তাই আগামী ৮ মাসের জন্য এই চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াম টি ভেন্যু হিসেবে তাদের দেয়া হয়েছে। আর সারা বাংলাদেশের এই মাঠগুলো এনএসসি এর আওতাভুক্ত। তাই এনএসসি যখন মাঠ চায় তখন আমাদের দিতেই হয়, আর এনএসসি যেহেতু মাঠ চেয়েছে তাহলে ভালো খেলা উপহার দেওয়ার জন্যই তারা সুন্দর আয়োজন করবে বলেই চেয়েছে, সেই ক্ষেত্রেই ওনারা এই মাঠ টি নিয়েছে।

তিনি বলেন, এই সুবাদে ক্রিকেট প্লেয়ারদের দাবি চাঁদপুর স্টেডিয়ামে যদি ৮ মাস খেলা হয় তাহলে আমরা কোথায় খেলবো এবং প্র্যাকটিস করব আমাদের ম্যাচের কি হবে এটা তাদের দাবি ছিল, কিন্তু এখানে এসে তাদের সাথে কথা হয় এবং যদি ঢাকা স্বনামধন্য ক্লাবের জন্য মাঠটি নির্ধারিত হয়, তাহলে তাদের সপ্তায় ১টি কিংবা ২টি ম্যাচ হবে, বাকি যে দিন গুলো থাকবে যদি সেই দিনগুলোতে তাদের জন্য কোনো ম্যাচের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে করতে দেওয়া হবে। এখন আমাদের এমপি মহোদয় এবং জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ-আলোচনা করে যে বিষয়টা ভালো হয় ইনশাল্লাহ আমরা সেটাই করার চেষ্টা করব।

প্রতিবেদক: মাজহারুল ইসলাম অনিক/
২৭ আগস্ট ২০২৬