কে হচ্ছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদ নিয়ে। যখন দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সংবাদ প্রকাশিত হয় তারপর থেকেই মূলতঃ চাঁদপুরে জেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রশাসক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে। কে হচ্ছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে কার কপালে ওঠে সেই রত্নখচির মুকুট তা কেবল সময়ই বলে দিতে পারে। আর মানুষের জল্পনা এবং নেতাকর্মীদের আশা আঙ্খার প্রতিফলন হবে কি না তা ই এখন দেখার বিষয়।
সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে জেলা বিএনপির বর্ষীয়ান কয়েক জন নেতাদের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ফরিদঞ্জের গণমানুষের নেতা সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম, সাবেক ছাত্র নেতা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফিরী, জাতীয় সাঁতার ফেডারেশনের সভাপতি ও জেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান শাহীন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ শুক্কুর পাটোয়ারী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহির উদ্দিন বাবর, জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরীর শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তবে শেষ হাসি কে হাসবেন তা এখন নির্ভর করছে দলীয় হাইকমান্ডের উপর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট সারাদেশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হয়। অপসারিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের স্থলে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিএনপির এই নেতাদের নাম স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
আলোচনায় সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাস পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদের নাম শোনা যাচ্ছে খুব জোড়ালো ভাবেই। বলতে গেলে চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে লায়ন হারুনুর রশিদের নাম আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তিনি চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় উপস্থিতি ও পরিচিতি জেলা পরিষদে তার সম্ভাব্য নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় এনেছে, বিশেষ করে দলের নীতিনির্ধারণী মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ একজন রাজনীতিবিদ এবং একজন সফল ব্যবসায়ী।বিভিন্ন মাধ্যমে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক বা গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি ফরিদগঞ্জ আসনে বিএনপির ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত এবং দলের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করছেন সফলতার সাথে। বিগত আওয়ামী লীগ শাসন আমলে তিনি হামলা মামলা ও নির্যাতন নিপিড়নের শিকার হন। তাই বলতে গেলে দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ নেতা হিসেবে জেলা পরিষদের চেয়ারে বসার দৌড়ে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনেকরছেন অনেক।
আলোচনায় অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আলোচিত আরেক নাম অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম। চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন চাঁদপুর জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যাহ সেলিম। বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক এবং সভাপতি, চাঁদপুর শহর বিএনপি’র দুইবারের সাবেক সেক্রেটারি, চাঁদপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, চাঁদপুর কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মুক্তি সৌধ নির্মান কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন কমিটির বারো বছর মহাসচিব এবং তিনবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি চাঁদপুরে ‘বলাকা’ নামক প্রথম পত্রিকা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি অসংখ্য সংগঠনের সাথে জড়িত। চাঁদপুরবাসী তাকে একজন দক্ষ সংগঠক এবং আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের লড়াকু ত্যাগী ও বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর রাজনৈতিক নেতা হিসেবে চিনেন এবং জানেন। সকল মহলের কাছে রয়েছে তার পরিচিতি এবং গ্রহণ যোগ্যতা। অ্যাড.সেলিম দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সেই সঙ্গে বিগত দিনের দলটির আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি ছিলেন সামনের সাড়িতে। বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক একাধিক মামলার আসামিও ছিলেন তিনি। অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে চাঁদপুর -৩ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। এবং চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে দলের প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সার্থকতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। কর্মময় বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সমাজে সর্বস্তরের মানুষের সাথে উঠাবসা ছিল তাঁর। কিন্তু কখনো কোথাও কোন কিছু হতে চাননি।এইবার জেলা পরিষদে সরকার যদি প্রশাসক নিয়োগ করেন সেটি তার প্রাপ্য। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি এবার জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। উল্লেখ্য আওয়ামী লীগের দুঃশ্বাসনের সময় নিতিন অসংখ্য মামলা ও নির্যাতন নিপিড়নের শিকার হলেও দলের দলের কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে এতটুও পিচপা হননি।
আলোচনায় মোস্তফা খান সফরী
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তুমুল আলোচনা রয়েছেন চাঁদপুর জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মোস্তফা খান সফরীর নাম। চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে বিএনপির পছন্দের তালিকায় রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম এই সদস্য। এ নিয়ে বিএনপির সেন্ট্রাল কমিটি থেকে শুরু করে চাঁদপুরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ মোস্তফা খান সফরী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ধাপে ধাপে নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতিতে সাংগঠনিক দক্ষতার ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মোস্তফা খান সফরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আবাসিক ছাত্র হিসেবে ছিলেন। তৎকালীন সময়ে শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন।
মোস্তফা খান সফরী ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর সদর উপজেলার সফরমালী হাইস্কুল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর সুদীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির জীবনে তিনি চাঁদপুর কলেজের শহীদ জিয়া ছাত্রাবাস শাখা, ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক (১৯৮৭) চাঁদপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারন সম্পাদক (১৯৮৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (১৯৮৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য (১৯৯১-৯২), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯৩-১৯৯৭)। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত এ জি এস প্রার্থী (১৯৯৩), ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য (১৯৯৬-১৯৯৭, ১৯৯৭-১৯৯৯), কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক (১৯৯৯-২০০১, ২০০৩-২০০৪), চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক টীম লিডার (২০০৩-২০০৪) (২০০৪-২০০৮), কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (২০০৪-২০০৮)সহ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেন। এরফলে তিনি একজন পরিচ্ছন্ন এবং দক্ষ ছাত্র নেতা হিসেবে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
পরবর্তীতে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে মোস্তফা খান সফরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর সদর উপজেলা ও জেলা শাখার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্য, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং সবশেষে সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্বে ছিলেন। সবশেষ তিনি ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দলীয় শৃঙ্খলা এবং আদর্শের প্রতি আনুগত্য থেকে তিনি চাঁদপুরের ৫টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে বিরামহীন নির্বাচনী প্রচারণা করেন। যা সকল প্রার্থীদের কাছে তথা বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা খান সফরী চাঁদপুর জেলা বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। জেলার বিভিন্ন ইউনিটে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্বাচন পরিচালনাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর রাজনীতিতেও সক্রিয় থেকেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পেলে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে তার সুসম্পর্ক ও মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরীর বলেন, আমি বিএনপির একজন কর্মী। ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় আদর্শ এবং শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি করে আসছি। তাই দল আমাকে যখন যে দায়িত্ব দিবে, সেটি আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবো। জেলা পরিষদ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে অবশ্যই সৎ, আদর্শবান এবং শিক্ষিত লোক প্রয়োজন। তাতে রাষ্ট্র এবং জনগণের আমানতের খেয়ানত হবে না।
আলোচনায় মাহবুবুর রহমান শাহীন
জেলা পরিষদের প্রশাসন পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন তুখোর রাজনীতিবীদ ও সংগঠক আলহাজ্ব মো. মাহবুবুর রহমান শাহীন। নেতাকর্মীরা মনেকরেন চাঁদপুরের উন্নয়ন ও সেবার ধারাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে একজন দক্ষ, শিক্ষিত এবং জনবান্ধব নেতৃত্বের আজ বড় প্রয়োজন।
চাঁদপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, আলহাজ্ব জনাব মাহবুবর রহমান শাহীন-কে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করলে চাঁদপুর জেলাবাসীর মনের আশাপূর্ণ হবে। নেতাকর্মীরা মনেকরেন তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি চাঁদপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী ও সনামধন্য পরিবারের সন্তান, যার ফলে জেলাজুড়ে তার ব্যাপক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি অনন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা অনস্বীকার্য।
জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া জগতেও সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এই নেতা। বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
তৃণমূলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাজনৈতিক ইমেজ সৃষ্টি করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি সাবেক চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক, সাবেক চাঁদপুর শহর বিএনপির আহবায়ক, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য হিসেবে দলের দুঃসময়ে তিনি নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন এবং সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। চাঁদপুরের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন মাহবুবুর রহমান শাহীনের মতো একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষকে জেলা পরিষদের দায়িত্বে বসানো হলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং আপনার নেতৃত্বে দেশ গড়ার কাজ আরও সুসংহত হবে।
আলোচনায় এম এ শুক্কুর পাটোয়ারী
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক জনপ্রতিনিধি এম এ শুক্কুর পাটোয়ারী। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলভিত্তিক জনপ্রিয়তা এবং সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে এই পদের অন্যতম শক্তিশালী প্রত্যাশী হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি প্রশাসক পদে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার সমর্থকদের আশা, দলীয় উচ্চপর্যায় তার অভিজ্ঞতা ও অবদানকে মূল্যায়ন করবে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার তুষপুর পাটোয়ারী বাড়িতে ১৯৬৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এম এ শুক্কুর পাটোয়ারী। তার পিতা আলহাজ্ব মোঃ আছমত আলী পাটোয়ারী ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি ধাপে ধাপে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পরবর্তীতে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যয়ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বৃহত্তর মতলব থানা ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে তিনি একাধিকবার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক লাভ করেন।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, একাধিক মামলার সম্মুখীন হওয়া এবং কারাবরণ তার রাজনৈতিক জীবনের অংশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও তার অবদান রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। মানবসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বয়ে এম এ শুক্কুর পাটোয়ারী চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে এই পদে নিয়োগ পাবেন, তা নির্ধারণ করবে দলীয় ও সরকারি সিদ্ধান্ত।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৫ মার্চ দেশের ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তদের সবাই কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের বিএনপির নেতা। এ ক্ষেত্রে সাবেক পরিচ্ছন্ন ছাত্র নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে দুই দফায় ১১ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয় সরকার। এ অবস্থায় চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে সাবেক সফল ছাত্রনেতা মোস্তফা খান সফরীর নামটি সামনে আসায় বিষয়টি চাঁদপুরের রাজনীতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনাই বলে দিবে কে হচ্ছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক।
আলোচনায় অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন বাবর
এদিকে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদের আরেক দাবিদার সাবেক ছাত্র নেতা ও চাঁদপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন বাবর। এব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় বলেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হওয়ার আমিই একমাত্র উপযুক্ত দাবিদার।
এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বিশ্বস্ততার সহিত কাজ করেছি। আমি অন্য ঘাটের পানি খেয়ে বিএনপিতে আসিনি। বিএনপিতে আমার জন্ম বিএনপিই আমার শেষ। ‘চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হতে আমিই একমাত্র দাবিদার’ যাত্রী চাপে নাজেহাল চাঁদপুর লঞ্চঘাট, সতর্ক বিআইডব্লিউটিএ জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনের মায়া না করে ওই সময়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্বে জেলাকে স্বৈরাচারমুক্ত করার আমিই প্রথম দাবিদার। ওই সময়ে দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় সুবিধাবাদী স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মেলালেও আমাদের নেতৃত্বকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি। তাই শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এমন কাউকে জেলা পরিষদের প্রশাসক মনোনীত করা হউক। সে হিসাবে জেলা পরিষদের প্রশাসক হওয়ার আমিই একমাত্র উপযুক্ত দাবিদার।
‘চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হতে আমিই একমাত্র দাবিদার’ অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সন্তানরা পাবেন স্নাতক পর্যন্ত পড়ার খরচ : শিক্ষামন্ত্রী দল তাকে মূল্যায়ন করার এটাই সময় বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আইন পেশায় নিয়োজিত অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন বাবর স্থানীয় পর্যায়ে বাবর বেপারী নামে পরিচিত হয়ে রয়েছেন। তিনি চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আসার আগে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকালীন সময়ে চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ২নম্বর সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হতে এক পর্যায়ে সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। শুধু তাই নয়, তিনি চাঁদপুর জেলা আইনীজীবী সমিতিতে সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশের একজন আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।
আলোচনায় ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী
এদিকে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় এসেছেন জেলা বিএনপি নেতা ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী। তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। জেলা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তিনি দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত মুখ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে এই নেতার নাম সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য প্রশাসক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধির অনুপস্থিতি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে-এমন বিধান বিদ্যমান রয়েছে। তবে এই নেতাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দেয়া হলে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই থাকবে না বলে জানান অনেকে।
তবে এর মধ্যে কে হবেন সেই কাঙ্খিত ব্যক্তি তা সময়ই বলে দেবে বলে মনেকরছেন বিভিন্ন মহল।
প্রতিবেদক: এম. ফরিদুল ইসলাম/
২৮ মার্চ ২০২৬