ফরিদগঞ্জে রাত হলেই শুরু হয় কৃষিজমির মাটি কাটার উৎসব
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মাটিখেকো হিসেবে পরিচিত বিশাল চক্রটি রাত হলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে কৃষি জমির টপসয়েল কাটার উৎসব। এবার প্রশাসনের চোখ পাখি দিয়ে কৌশলে রাতের আঁধারে বেকু দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটার বিক্রি করছে ফরিদগঞ্জের ৪ নং পশ্চিম সুবিদপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে সাহারবাজারের উত্তরে পাশে গাজী বাড়ী এলাকায়।
এই মাটিখেকো চক্রটি কৃষকদের নানাভাবে বুঝিয়ে বা জোরপূর্বক রাজি করিয়ে দেদার নিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান টপসয়েল। প্রতি বছর শীত এলেই চাঁদপুরের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপ্রধান উপজেলা ফরিদগঞ্জে এদের তাণ্ডব সীমা ছাড়িয়ে যায়।
দিনের বেলা প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে চুপচাপ থাকলেও সন্ধ্যা পর রাত ৮টা শুরু করে মাটি কাটা ভোর ছয়টা পর্যন্ত। আবার বেছে নেওয়া হয় ছুটির দিনগুলো। ঐ এলাকার মিজি বাড়ীর পাশে কৃষি জমির মালিক সেকান্তর মোল্লা ও মোঃ জাহাঙ্গীর মাটি বিক্রি করছে প্রায় এক এক কৃষি জমি নষ্ট করছে।
তবে বেকু দিয়ে মাটি কাটছে মোহাম্মদ কানা হানিফ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইকবাল হোসেন সহ কয়েকজন তারা প্রভাব খাটিয়ে এ মাটি কাটে পার্শ্ববর্তী ইট ভাটা গুলোতে বিক্রি করে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় দিনের বেলা বন্ধ রাখে বেকু মাটি খেকো পাওয়া যায়নি । তবে এলাকার কয়েকজন কৃষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছু অভিযোগ করে বলেন তারা রাতে কাটছে আমরা ঘুমাতে পারি না ট্রাক্টারের আওয়াজে তারা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে রাতভর মাটি কেটে নিচ্ছে কৃষি জমি থেকে। ডাক দিলে দিলে ও শুনছে না কে শুনে কার কথা। দিনের বেলা বেকু বন্ধ রাখে পাশে প্রতিদিন রাতে কাটছে মাটি। তবে পরিবেশ আইন অমান্য করে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এলাকার প্রভাবশালীরা। ফলে কৃষি জমির উর্বরতা হারানোর পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশের ভারসাম্য। ভেঙে যাচ্ছে এলাকার রাস্তা-ঘাট। এলাকাবাসীর দাবি টপসয়েল বিক্রেতা এবং ক্রেতা ও এই কাজের সঙ্গে অন্যান্য যারা জড়িত তাদের অধিকাংশই স্থানীয় ।
জানা যায়, উপজেলার ৪নং পশ্চিম সুবিদপুর সাহের বাজারের উত্তর দিকে গাজী বাড়ির পাশে দেদারছে চলছে এ মাটি কাটার উৎসব। কৌশল বুঝে মাটি কাটার চক্রটি রাতের বেলা মাটি কেটে নিচ্ছে প্রশাসনের চোখ পার্টি ফাঁকি দিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেখার কেউ নেই।
মাটি ব্যবসায়ীরা প্রতি ট্রাক্টর মাটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করে সেগুলো বিক্রি করে দিচ্ছেন ১৮ শ থেকে দুই হাজার টাকায়। আর এতে অধিক মুনাফা আদায় করে নিচ্ছে মাটি খেকো চক্রটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজে জানান, এই চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালীরা জড়িত। ফলে তারা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেন না। প্রভাবশালীরা সবই একই। সরকার পরিবর্তন হলে শুধু কয়েকজন পরিবর্তন হয়, বাকিরা সবাই থাকে তারা প্রভাব খাটিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করে ।
চাঁদপুর সেচ প্রকল্পভুক্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাইরের অংশে প্রতি বছর বর্ষায় পলি মাটি জমে। ফলে এসব এলাকায় পরবর্তীতে ভালো ফসল হয়। যা উপজেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয়ভাবে ভূমিকা রাখছে। আবার সেচ প্রকল্পভুক্ত এলাকার কৃষিজমি থেকে মাটা কাটার ফলে জমিগুলো ক্রমশ নিচু হয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সুবিদপুর ইউনিয়নের সাহের বাজার এলাকার কৃষকরা জানান যারা জমি থেকে মাটি বিক্রি করছে এবং যারা কিনে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনের শাস্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন।
প্রতিবেদক: এমকে এরশাদ
২৪ ডিসেম্বর ২০২৬