বিনোদন

কি আশ্চর্য! আপনি কি জানেন-ই না যে,পর্দা ফরজ : হ্যাপী

আপনি নামাজ আদায় না করে অন্য কাজে ব্যস্ত!কিভাবে সম্ভব! অথচ এ নিয়ে আপনার কোন কষ্ট নেই!কি কাজে ব্যস্ত? দুনিয়ার কাজে অবশ্যই।এই কাজে হয়তো দুনিয়াতে লাভবান হবেন কিন্তু আখিরাতে? যে কাজের জন্য আল্লাহ পাঠালেন সেই কাজের কি হলো?
হাদীস শরীফে আছে- “সালাত হচ্ছে দ্বীনের বুনিয়াদ সুতরাং যে তরক করলো সে দ্বীনকেই বরবাদ করলো”
হাদীসে আরও আছে- “সালাত তরক করাই হচ্ছে কুফর ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্যকারী”(তিরমিযী,হাদীস-২৬১৮)
(তরক অর্থাৎ বিরত থাকা)
.
আপনি পর্দা করেন না। কি আশ্চর্য! আপনি কি জানেন-ই না যে,পর্দা ফরজ! নামাজ কাজা করা সম্ভব,রোজাও পরে করে নিতে পারবেন(যদি আল্লাহ বাচিয়ে রাখেন) কিন্তু পর্দা? পর্দা কাজা করার তো কোনোই সুযোগ নেই। পর্দা সম্পর্কে মুমিন নর-নারী উভয়ের জন্যই পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে-

“মুমিন পুরুষদের বলুন,তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে।এটাই তাদের পবিত্রতার জন্য অধিকতর সহায়ক।নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের কর্ম সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।আর বলুন মুমিন নারীদেরকে,যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং নিজেদের শোভা প্রকাশ না করে,তবে যা এমনিতেই প্রকাশ পেয়ে যায়।”(সূরা আন-নূর,আয়াত-৩০,৩১)
.
আপনি গীবত করেন অর্থাৎ কারো অনুপস্থিতিতে তার এমন আলোচনা করা যেটা সে অপছন্দ করে।আর যদি সেই দোষ সে করে বা তার মধ্যে থাকে তাহলে তো গীবত আর যদি এমন হয় আপনি এমন কথা বলছেন যেটা সে করেনি, সেটা অপবাদ এবং এটা আরও বড় অপরাধ।গীবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মত ঘৃন্য অপরাধ বলা হয়েছে।এটা জঘন্য গোনাহ।আর অপবাদ দেওয়াকে নিজ মায়ের সাথে জিনা করার মত অপরাধ বলা হয়েছে।নাউযুবিল্লাহ! আপনি কি কল্পনাও করতে পারবেন এর জন্য জাহান্নামের কত কঠিন আজাব ভোগ করতে হবে?
.
আপনি অনেক পড়াশুনা করছেন বা করেছেন।অনেক সার্টিফিকেট হবে বা হয়েছে।কোন পড়াশুনার জন্য? যে পড়াশুনা দ্বীন থেকে দুরত্ব সৃষ্টি করে।আপনি এতটা বোকা কিভাবে বনে গেলেন!আপনার তো শয়তানের ধোকায় পড়ে এতটা বোকা হওয়ার কথা ছিল না,আপনার কাছে তো কোরআন ছিল ও আছে।

নির্জন হেরাগুহায় আধ্যাত্মিক নিমগ্ন নবী করিম (সাঃ) উপর থেকে প্রথম যে ওহী নাযিল হয় তা হল-” (হে মুহাম্মাদ),পড়ুন আপনার প্রভুর নামে,যিনি সৃষ্টি করেছেন; সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আটকে থাকা রক্ত থেকে।পড়ুন,আর আপনার প্রতিপালক সর্বমহান,যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলম দ্বারা,শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।”(সূরা আলাক,আয়াত-১-৫)

আমরা আজকের এই পড়াশুনার জন্য ,সার্টিফিকেটের জন্য অস্থির, যাতে করে সমাজে একটা ভাল অবস্থান হয়।(!) অথচ ইসলাম সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানও আমাদের নেই! আমরা জানি না আল্লাহ আমাদের কি বলেছেন!আর জানবোই বা কিভাবে আমারা তো জানতেই চাই না।আমরা জানি না নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে আল্লাহ কি সংবাদ পাঠিয়েছেন!

আপনি আল্লাহর কোরআন হাদীস সম্পর্ক জ্ঞান রাখেন না,এতএব অবশ্যই আপনি মূর্খ।আপনি কিভাবে ভাবেন যে,দুনিয়ার পড়াশুনা করে ভাল রিজিকের ব্যবস্থা করবেন বা ভাল থাকার ব্যবস্থা করবেন?রিজিকদাতা ও পালনকর্তা আল্লাহ একমাত্র।

গলিতে গলিতে স্কুল অথচ মাদরাসা(কওমী) সারা দেশ জুড়ে হাতে গোনা! বাহ।! আমাদের চাহিদা তো নেই।কারণ বেশিরভাগ মানুষের কাছেই এই শিক্ষা মূল্যহীন ।চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন হয় এটাই স্বাভাবিক!

অবস্থা যখন এই তবে জান্নাতের আশা কিভাবে!আমরা আল্লাহর বিধান মেনে চললেই সব ঠিক হবে অন্যথায় জাহান্নামে নিজের ঠিকানা হবে।
(লেখিকা- নাজনীন আক্তার হ্যাপী, সাবেক অভিনেত্রী)

Share