কচুয়ায় বলসুন্দরী জাতের বরই চাষে ভাগ্য বদল প্রবাসীর
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আটোমোর গ্রামে প্রথমে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে শখের বসে, বল সুন্দরী জাতের বরই চাষ করে বর্তমানে সফলতার মুখ দেখছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মো: জাকির হোসেন মুন্সী। তার বাগানে প্রতিদিন বিক্রি করছেন বাগানের বড় জাতের মিষ্টি সু-স্বাধু বরই।
কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়া উৎপাদিত এ বরইয়ের স্থানীয় বাজারে ও স্থানীয়দের কাছে দিন দিন বেশ চাহিদা বাড়ছে। চলতি বছর বড়ই বিক্রি শুরু করেছেন, তবে পর্যায়ক্রমে শেষ পর্যন্ত বাগানের সকল বড়ই বিক্রি করতে চান তিনি। এতে অধিক লাভবান হবেন মনে করেন ব্যবসায়ী প্রবাসী মো: জাকির হোসেন মুন্সী।
সরেজমিনে জানা গেছে, কচুয়ার আটোমোড় গ্রামের প্রবাসী মো: জাকির হোসেন মুন্সী পৈত্রিক ৩৫ শতক জায়গায় গড়ে তোলা বরই বাগান পুরোটা নেট দিয়ে ঘেরা। ভেতরে প্রবেশ করে গাছে ঝুলতে দেখা যায় সবুজ-হলুদ ও লালচে থাই-বল সুন্দরী বরই। বিক্রির জন্য প্রবাসী মো: জাকির হোসেন মুন্সী কয়েকজন গাছ থেকে বরই তুলে ব্যাগে রাখছেন। আকারে বড় ও স্বাদে সুমিষ্ট হওয়ায় বাগানেই বিক্রি হয়ে যায় সব বরই। তার দেখাদেখি এলাকায় অনেকেই বড়ই চাষে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।
তবে তিনি জানান, বাড়তি জামেলা না থাকায় এবং খরচ কম হওয়ায় কেউ তার মতো বড়ই চাষ করতে চাইলে তিনি সহযোগিতা ও পরামর্শ দিবেন।
বড়ই চাষী প্রবাসী মো: জাকির মুন্সী বলেন, অনেক বছর ধরে মারয়েশিয়ায় প্রবাসে ছিলাম। বাড়ির সামনে নিজস্ব ভিটায় ৫ বছর আগে ৩৫ শতক জায়গায় বলসুন্দরী ও থাই জাতের বরই গাছ লাগাই। আমি বড়ই গাছের বাগান করে খুবই আনন্দ পাই। ফরিদপুর থেকে বড়ই গাছের চারা সংগ্রহ করেছি। আমার আগানে ৫২ টি বল সুন্দরী বড়ই গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে প্রায় ২ মন করে বড়ই রয়েছে। প্রতি কেজি বড়ই খুচরা মূল্য ১২০ টাকা করে বিক্রি করছি। বাগানে যে পরিমাণ বড়ই আছে, আশা করছি এ বছর প্রায় ৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে পারবো।
কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ বলেন, কম খরচ ও পরিচর্যায় বেশি ফলন পাওয়ায় বরই চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় চাষিদের। বলসুন্দরী ও থাই জাতের বরই অনেক সুস্বাদু। প্রবাসী মো: জাকির হোসেন মুন্সী এ জাতের বরই চাষ করে সফল হয়েছেন। বরই চাষে যে কোনো চাষী আগ্রহ হলে কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
২৫ জানুয়ারি ২০২৬