Home / উপজেলা সংবাদ / কচুয়া / কচুয়ায় প্রবাসী পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন
প্রবাসী

কচুয়ায় প্রবাসী পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন

চাঁদপুরের কচুয়ায় ক্রয়কৃত জমির রেজিস্ট্রি ও পাওনা টাকা না দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে সৌদি প্রবাসী বাবুল হোসেন ও তার স্ত্রী মিশু মুক্তাকে জেল খাটানোর ঘটনায় এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের মোল্লা মার্কেটে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্ত করার অনুরোধ করেন প্রবাসী বাবুল হোসেন ও এলাকাবাসী।

প্রতিবাদ সমাবেশে গিয়াস উদ্দিন কর্তৃক মামলার সাক্ষীরা গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিচার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসী বাবুল হোসেন ও স্ত্রী মিশু মুক্তা বলেন, গিয়াস উদ্দিন একজন প্রতারক, মানুষের টাকা আত্মসাত কারী, ভূমি দখলদার ও মামলাবাজ। আমার শাশুড়ি ও মা বিলকিস বেগমের কাছে ১২ শতাংশ জমি বিক্রয় করবে বলে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আমার কাছ থেকে ৩টি বায়না স্ট্যা¤েপর মাধ্যমে ১১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নেয় প্রতারক গিয়াস উদ্দিন। প্রবাসী বাবুল হোসেন সৌদি আরব থেকে বাড়িতে এসে গিয়াস উদ্দিনকে জমি রেজিস্ট্রি কথা বললে, বিভিন্ন অজুহাত দেখানো শুরু করেন । এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশও হয়, সালিশের কোন সিদ্ধান্ত না মেনে গিয়াস উদ্দিন আমাদের কে উল্টো হয়রানি করেন। গত ২৩ জুন চাঁদপুর বিজ্ঞ আমলী আদালতে আমাদের স্বামী স্ত্রী ও মাকে জড়িয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১৬ জুন সন্ধ্যায় গিয়াস উদ্দিনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত যখন করছে বলে মামলা উল্লেখ করেন । আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনে বাড়িতে আসলে হঠাৎ পুলিশ এসে আমাদেরকে ধরে নিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে। তার মিথ্যা মামলায় এক সপ্তাহ আমরা
স্বামী ও স্ত্রী কারাভোগ করি। পরবর্তীতে আমরা এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পারি সিএনজি দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পায় প্রতারক গিয়াস উদ্দিন।

এই দুর্ঘটনার বিষয়টি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন মজুমদার কে অবগত করেন বাদী গিয়াস উদ্দিন । যেদিনে সে দুর্ঘটনা শিকার হয়, আমরা পরিবার সবাই ঢাকায় ছিলাম। আমাদের জমি ও টাকা না দিয়ে উল্টো মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করছে। আমাদের ক্রয়কৃত জায়গা দাবি করলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে গিয়াস উদ্দিন। আমরা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা ও দেশবাসীর কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি।

গিয়াস উদ্দিনের আদালতে দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী আলমগীর হোসেন জানান, প্রবাসী বাবুল ও তার পরিবার গিয়াস উদ্দিনকে হামলা করতে শুনিনি। গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেই। আমাকে না জানিয়ে মিথ্যা মামলায় কেন সাক্ষী দিয়েছে, সকলের কাছে আমি প্রতারক গিয়াস উদ্দিনের বিচার চাই। জুবায়ের হোসেন, আলী হোসেন, সোহরাব হোসেনসহ এলাকাবাসী জানান, বাবুল হোসেন প্রবাসে থাকাকালীন এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে ১২ শতাংশ জমি গিয়াস উদ্দিন বিক্রি করবে বলে তিনটি বায়না স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ১১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নেয়। বাবুল হোসেন প্রবাস থেকে এসে জমি রেজিস্ট্রি কথা বললে গিয়াস উদিন বিভিন্ন অজুহাত দেখানো শুরু করেন।

এ নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশ করে দিলেও, গিয়াস উদ্দিন প্রবাসী বাবুল হোসেনকে জমি রেজিস্ট্রি ও কোন টাকাও দেননি। সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা আঘাত পেয়ে, মিথ্যা নাটক সাজিয়ে প্রবাসী ও তার স্ত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে। গিয়াস উদ্দিন সে এলাকায় দীর্ঘ না থেকে কচুয়া তার মেয়ের বাসায় থাকেন। এলাকায় কোন মারামারি এ ধরনের ঘটনা হয়নি। অযথাই প্রবাসী পরিবারকে হয়রানি করে আসছেন। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচারের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্ত করার অনুরোধ জানান ।

কচুয়া প্রতিনিধি/
৩০ জুলাই ২০২৬