কচুয়ায় ঈদ আনন্দে বাড়ি ফেরা হলো না খাদিজা, ফিরলেন লা/শ হয়ে

চাঁদপুরের কচুয়ার তেতৈয়া গ্রামের মেয়ে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা (২৫) সাভারে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পরিবারের কাছে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিথর দেহ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। নিহত খাদিজা কচুয়া উপজেলার ৬নং কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ির সৌদি প্রবাসী শাহজাহান মোল্লার মেয়ে।

তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন। এদিকে ঈদের আনন্দের সময় এমন মর্মান্তিক ঘটনায় কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশিরা জানান, শারমিন জাহান খাদিজা খুবই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষা গ্রহন শেষে দেশের নামকরা মানুষ হবে।

জানা গেছে, রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরে দ্রুত সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফাহিম আল হাসান নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা।

সোমবার বাদ আছর জানাজা শেষে শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার মরদেহ তেতৈয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনার রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে এ ঘটনায় নিহত শারমিনের চাচা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি ফাহিম আল হাসান (২২) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার খুরুইল গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বাদী রাজধানীর থানা-উত্তরা পশ্চিম মডেল থানার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম (৪৬) এজাহারে অভিযোগ করে বলেন, শারমিন জাহান খাদিজার সঙ্গে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম আল হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা চলতি বছরের ২৪ জুন ইসলামিক শরিয়ত মেনে নিজেরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর আমাদের পরিবারকে বিষয়টি অবগত করে এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকে আশুলিয়া থানার ইসলামনগর জামে মসজিদ সংলগ্ন জনৈক সুপ্তদের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়া বসবাস করে আসছিল। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই উভয়ের দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করিয়া কলহ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি শারমিন তার বাবা ও মাকে অবহিত করেছিল বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে।

চতুর্থ তলা বাড়িটির নিচ তলার বাম পাশের রুমে ঢুকে শারমিনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তখন আমি আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আমার ভাতিজিকে চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মর্গে মরদেহ প্রেরণের আগে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। শারমিনের কপালের ডান পাশে, মাথার ওপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে জানতে পারি, আসামি ফাহিমন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে বিকেল অনুমান সাড়ে ৩টায় ভাড়া বাসায় ফিরে যান। এই সময়ের মধ্যেই ফাহিমসহ অজ্ঞাতনামারা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শারমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করে।

প্রসঙ্গত গত রোববার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলাম নগর গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
১৬ মার্চ ২০২৬