এসএসসির ফরম পূরণ করতে না পেরে বিক্ষোভ
চাঁদপুর শহরের লেডি প্রতিমা মিত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রাকনির্বাচনী পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে না পারায় ফরম পূরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ছিলো জরিমানাসহ ফরম পূরণের সর্বশেষ দিন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের সামনে এসে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের একাধিক পরীক্ষা নিয়েও তাদের ফরম পূরনের সুযোগ দেয়া হয়নি। তবে ৪ বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়নি এমন এক শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দিয়েছে শেষ দিনে। এতেও তারা আরো ক্ষুব্ধ। কারণ নিয়ম সকলের জন্য একই রকম হওয়া দরকার বলে তারা মনে করেন।
এদিকে সকালে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সড়ক অবরোধের কারণে বিদ্যালয়ের সামনে অর্থাৎ জেনারেল পোস্ট অফিসের সড়কটিতে যানজট সৃষ্টি হয়। দ্রুত সসময়ের মধ্যে সেখানে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদসহ পুলিশ কর্মকর্তারা অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক স্বাভাবিক করেন।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়নি এমন ৪জন, ২ বিষয়ের ৬জন, ৩ বিষয়ের ৪জন, ৪ বিষয়ের ৮জন এবং ৫ বিষয়ের ৫জন ফরম পূরণ বঞ্চিত শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়।
তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ২০২৪ সারের ৫ আগস্টের পরে এসএসসি পূর্বের ব্যাচের ও বর্তমানের ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ মোর্শেদা ইয়াছমিনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ দাবী করেন। সেই থেকে তিনি তাদের প্রতি অন্যায় ও অবিচার করে আসছেন। কারণ তিনি প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষার পরেও তাদের একাধিক পরীক্ষা নিয়েছেন। কিন্তু সর্বশেষ পরীক্ষার ফরম পূরণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন।
এদিকে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তারা এই বিদ্যালয়ে থাকলে তাদের সাথে বছরজুড়ে খারাপ আচরণ করা হবে। যার ফলে তারা এই বিদ্যালয় থেকে টিসি নিয়ে চলে যাওয়ার কথা জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা ইয়াছমিন বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবছর এক বিষয় উত্তীর্ণ হয়নি এমন কাউকে ফরম পুরণের সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ বিগত ৩ বছর বিদ্যালয়ের ফলাফল সন্তোষজনক নয়। যে কারণে শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরো বলেন, যেসব শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ দেয়া হয়নি তাদের অনেকের সার্বিক ফলাফল খুবই খারাপ। প্রাকনির্বাচনী পরীক্ষার পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আবারও পরীক্ষা নেয়া হয়। তারা সেখানে উল্লেখ করেছে পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে না পারলে কোন অনুরোধ করবে না।
অপরদিকে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে কোন সিদ্ধান্ত না পেয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নিকট যান। তিনি শিক্ষার্থীদের বাড়ি চলে যেতে বলেন। শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ বক্তব্য হচ্ছে তারা পরীক্ষার অংশগ্রহনের জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন এবং তারা এই প্রধান শিক্ষকের অব্যাহতি চান।
প্রতিবেদক: মাজহারুলি ইসলাম অনিক/
১৮ জানুয়ারি ২০২৬