ফরিদগঞ্জে আত্মহত্যার প্ররোচনায় আসামি করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিসি বিচার এবং পরবর্তীতে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় আসামি অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মামলায় আসামি করা ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযুক্তদের স্বজনরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাঁস চুরির অপবাদে সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে ‘নাকে খত’ দেওয়া এবং অর্থদণ্ড করার জেরে মো. মাসুম মিজি (২০) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন-এ অভিযোগে তার পিতা আলাউদ্দিন মিজি বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা সালিস বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন বক্তারা।

তারা আরও বলেন, মামলার প্রধান আসামি সোহেল মোল্লা কয়েক মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আসামিরাও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহিন সরকার বলেন, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোহেল মোল্লাসহ কয়েকজন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অন্যদিকে সালিস পরিচালনাকারী ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

মামলার সাক্ষী আল আমিন অভিযোগ করেন, তাকে সাক্ষী করা হলেও এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, সালিস চলাকালে তিনি উপস্থিত থাকলেও মামলার কয়েকজন আসামি সেখানে ছিলেন না। তাদের কীভাবে আসামি করা হলো, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুন, জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রধান আসামি সোহেল মোল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম এবং পৌর যুবদল নেতা রাজু পাটওয়ারী।

উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ হাঁস চুরির অভিযোগে চরমথুরা গ্রামের মাসুম মিজিকে পরদিন ৮ মার্চ সালিসের মুখোমুখি করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ওই সালিসে অংশ নেন। সালিসে মাসুমকে ‘নাকে খত’ দেওয়া এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ওই দিন বিকেলে তিনি নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হেলাল উদ্দিন।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১১ মার্চ ২০২৬