চাঁদপুরে এলপি গ্যাস সংকটে দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ ও দোকানিরা

চাঁদপুরে গত তিন দিন ধরে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহর ও আশপাশের এলাকার অধিকাংশ দোকানেই এলপি গ্যাসের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতারাও।

চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় যেসব বাসাবাড়িতে এলপি গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন, এমন বহু ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলা জানা যায়, গত তিন দিন ধরে শহরের গ্যাস বিক্রি করা দোকানগুলোতে কোন প্রকার সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল পাওয়া যাচ্ছেনা। গত দুদিন আগে কিছু কিছু দোকানে গ্যাস পাওয়া গেলেও তারা পূর্বের চেয়ে অধিক দাম চাচ্ছেন।

শহরের বিভিন্ন এলপি গ্যাস বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় দোকানে বিক্রি করার মতো কোনো সিলিন্ডার গ্যাস নেই।

অনেক দোকানি জানিয়েছেন, গ্রাহক আসলেও দেওয়ার মতো গ্যাস না থাকায় প্রতিদিনই ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারাও।

এদিকে শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে এলপি গ্যাস ব্যবহারকারী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেকেই একাধিক দোকান ঘুরেও গ্যাসের বোতল পাচ্ছেন না। বিকল্প হিসেবে কেউ কেউ চুলা বন্ধ রেখে বাইরে থেকে খাবার কিনছেন, আবার কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি থেকে গ্যাসের চুলায় রান্না করে এনে সাময়িকভাবে কাজ চালাচ্ছেন।

দোকানিরা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলা হলেও বাস্তবে জেলা পর্যায়ে সরবরাহ ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না। পরিবহন জট, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারনে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চাঁদপুরের গ্যাস ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে দিনগুলোতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে সোমবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় ও যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের ডিলার ও পাইকারি দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস বিক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত ভাউচার সংরক্ষণের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি,
৬ জানুয়ারি ২০২৬