নারী

একটি কিডনি সারাতে গিয়ে আরেকটি গায়েব !

একটি কিডনি সারাতে গিয়ে আরেকটি গায়েব হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে মা রওশন আরাকে চিকিৎসা করাতে এসে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদার।

রফিক শিকদার জানান, তাঁর মা রওশন আরার (৫৫) বাম কিডনিতে সমস্যা ছিল। মূত্রনালীতে ইনফেকশন ছিল। কিন্তু ডানের কিডনিটি পুরোপুরি ভালো ছিল। তাঁর ডায়বেটিস নাই, হাই প্রেসার নাই, বাড়তি কোনো রোগ নাই। বাম কিডনির যে ইনফেকশন ছিল তা সার্জারি করা হলে মা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যান। ইনফেকশন অপসারণের পর সুস্থভাবে চলাফেরা করছিলেন মা।

রফিক শিকদার বলেন, গত ঈদুল আজহায় আমরা তখন মাকে নিয়ে পাবনায়। ঈদের পর হঠাৎ ফোন আসে পিজি হাসপাতাল (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাসপাতাল) থেকে। ফোনে বলা হয়, ‘আপানার মায়ের বাম কিডনিটা ফেলে দিতে হবে। ফেলে দিলে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন। তা না হলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা হতে পারে।’ আমরাও রাজি হই।

গত ২৬ আগস্ট মা রওশন আরাকে বিএসএমএমইউ’তে ভর্তি করেন রফিক শিকদার। ভর্তি করার পর বেশ কিছু পরীক্ষা করানোর পর গত ৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

রফিক শিকদার বলেন, অস্ত্রোপচারের পর মা হাসপাতালে ছিলেন। এ সময় চিকিৎসকরা বলেন, আপনার মাকে আইসিইউতে নিতে হবে। তখন মায়ের জ্ঞান আছে, কথাও বলছেন। আমি বললাম, তাঁকে দেখে তো মনে হচ্ছে না, আইসিইউতে নিতে হবে। এ সময় চিকিৎসকরা তাঁকে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য আমার ওপর চাপ দেন। বিএসএমএমইউতে আইসিইউ খালি না থাকায় মাকে মগবাজারের ইনসাফ কিডনি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। ওই হাসপাতালের প্রফেসর ফখরুল সাহেব বললেন, আপনার মায়ের কিডনি কেন ফাংশন করছে না তা জানা দরকার। তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠান।

সিটি স্ক্যানের পর ল্যাবএইডের চিকিৎসকরা বলেন, ‘আগের কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে আপনার মায়ের বাম কিডনি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার পর দেখা যাচ্ছে ডানের কিডনিও নেই। কিডনিটা কোথায় গেল? ওটা কি ফেলে দেওয়া হয়েছে? আমি বললাম, তাতো জানি না!’

রফিক শিকদার আরো বলেন, ‘সব রিপোর্ট দেখার পর ইনসাফ হাসপাতালের চিকিৎসক ফখরুল স্যার মাকে আর তার হাসপাতালে রাখতে চাইলেন না। পরে মাকে আবার বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসলাম। সেখানকার চিকিৎসক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, আমার হাসপাতালের আইসিইউ খালি নেই তা আমাকে ফোনে বলতে পারতো। কেন তাঁকে (রোগীকে) প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হলো? আমি বললাম, আপনার হাসপাতালে রাখলে কি লাভ হতো, যদি দুটি কিডনিই না থাকে? তখন তিনি বলেন, আপনি কারও কথায় কান দিবেন না। আপনার মায়ের পেটে কিডনি আছে। কিন্তু ফাংশনাল না, দেখা যাবে না।’

বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, কিডনি কোনো কারণে নন-ফাংশনাল হলে সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে না।

তবে ডা. দুলালের এই যুক্তি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন রফিক শিকদার। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক যা বলছেন তা পুরোপুরি মিথ্যে। আমি অন্য কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিশ্চিত করেছেন, দৃশ্যমান জিনিস পেটের মধ্যে থাকলে তা কাজ করুক বা না করুক দেখা যাবেই।’

রওশন আরার ডান কিডনিটি অস্ত্রোপচারের সময় কেটে ফেলা হয়েছে কি-না তা তদন্তে সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশিদকে। কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম খুরশিদুল আলম, নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক অসীম কায়েস, রেডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, সার্জারি বিভাগের ডিন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিএসএমএমইউ’র অ্যাডিশনাল রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আসাদুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটি গঠন প্রসঙ্গে রফিক শিকদার বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টের ব্যাপারে আমার কোনো বিশ্বাস নেই আর। আমি রবিবার আদালতে একটি রিট আবেদন করব। মায়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার চাই আমি।’

বার্তা কক্ষ
২৩ সেপেটম্বর,২০১৮

Share