Home / উপজেলা সংবাদ / ফরিদগঞ্জ / প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উধাও শত শত বিঘা ফসলি জমি
ফসলি

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উধাও শত শত বিঘা ফসলি জমি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কৃষি জমির মাটি কাটার যেন প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা চলছে। উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম, পাইকপাড়া উত্তর ও সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে নির্বিচারে কেটে নেওয়া হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি। এতে একদিকে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা কৃষি জমি, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে উপজেলার খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলছে। এর ফলে জমি ফসল উৎপাদনের অযোগ্য হয়ে পড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো। স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। যদিও কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের কড়া নির্দেশনা ও আইন বিদ্যমান, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা, পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের মধ্য শাশীয়ালী, জয়শ্রী ও আসৎকুয়ারী এবং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আইটপাড়া ও বড়গাঁও এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিন-রাত অবৈধভাবে মাটি কাটার হিড়িক চলছে। ভেকু ব্যবহার করে গভীর গর্ত করে কৃষি জমির মাটি কেটে নেওয়ায় ফসলি জমি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাশের জমিও ভেঙে পড়ছে। এমনকি খাস জমি ও খালও মাটি ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এসব মাটি ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে উপজেলায় দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদন।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মাটি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ আইন, ২০১৩-এর ৫৯ নম্বর আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, “কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।” এ আইন লঙ্ঘন করলে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এছাড়া আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি ভারী যানবাহনের মাধ্যমে ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহণ করতে পারবে না। এই বিধান লঙ্ঘনে এক লাখ টাকা জরিমানার কথা থাকলেও বাস্তবে আইন প্রয়োগের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, রাতের বেলায় অবৈধ মাটি বহনকারী ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের বিকট শব্দে ঠিকমতো পড়াশোনা ও ঘুমাতে পারি না। দিনের বেলাতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ধুলাবালিতে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত কৃষি জমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর আবাদি কৃষি জমি রয়েছে। কৃষি জমির উপরের ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি অংশই হলো টপ সয়েল, যা ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমি স্থায়ীভাবে অনূর্বর হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “ইতিপূর্বে কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। যেখানেই এ ধরনের সংবাদ পাওয়া যায়, সেখানেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
৪ জানুয়ারি ২০২৬