ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দা মেনে নারীদের ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়: ডিসি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ভোটবিমুখ থাকা নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে এক বিশেষ সভা করেছেন প্রকাশন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রায় ৫৫ থেকে ৫৭ বছর আগে তৎকালীন সময়ে কোনো এক পীর সাহেবের দেওয়া একটি বক্তব্য বা আদেশকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলের নারীরা তাদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দা মেনে নারীদের ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়।

তিনি রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রায় সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা নিজ নিজ মসজিদে খুতবা ও আলোচনার মাধ্যমে এলাকার পুরুষ ভোটারদের বোঝান—ইসলামে নারীদের ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। তাদের যেন পরিবার-পরিজনের নারী ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে পাঠাতে উৎসাহিত করেন। এবারের নির্বাচনে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান অত্যন্ত বেশি। আশা করি, আপনারা যদি সঠিকভাবে বিষয়টি বোঝাতে পারেন, তাহলে এবার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নারী ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁদপুরের উপ-পরিচালক সেলিম সরকার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. আর. এম. জাহিদ হাসান, ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হক এবং স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান হুমায়ুন, স্থানীয় রাজনৈতিক সোহেল খান, ও ইমাম মোয়াজ্জেনরা।

বক্তারা বলেন, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা প্রায় ৫৭ বছর ধরে ভোট দিতে আসেন না। এ দীর্ঘদিনের সামাজিক জড়তা ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে প্রতিটি নির্বাচনের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্বুদ্ধকরণ সভা আয়োজন করা হচ্ছে। নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সভা শেষে ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা প্রশাসনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে নারীদের ভোটদানে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬