ইরানের বিরুদ্ধে এক মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষিতে এবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের ওপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ লোহিত সাগর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। তবে তারা এ–ও বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কোনো সামরিক মোতায়েনের অনুমোদন দেননি। এদিকে, গণহত্যাকারী ইসরাইলের ফাঁদে পা দিয়ে ইরানে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটাতে গিয়ে নিজ দেশে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন যুদ্ধবাজ এই নেতা। এখন তার নিজের চেয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে আবারও বিশাল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে প্রভাব বিস্তার করা এ যুদ্ধে হুতি বিদ্রোহীদের সম্পৃক্ততা নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যুদ্ধে হুতি বিদ্রোহীরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে চলাচল করা জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। ফলে শিপিং কোম্পানিগুলোকে ব্যয়বহুল বিকল্প পথে যেতে হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচলের জন্য এখন লোহিত সাগর ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এছাড়া চলমান সংঘাত নিরসনে এবার নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক শর্ত সামনে এনেছে ইরান। তেহরান এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। একই সঙ্গে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে দেশটি। আবার ইরানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন দেশটির নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। তার মতে, এই সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করা মানে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা। সবকিছু বিবেচনায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের হয়তো নতুন মোড় নিতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের উপর্যুপরি হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনজীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গতকাল শনিবার সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ (ইজিএ) জানিয়েছে, তাদের প্রধান কারখানায় ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
একই সময়ে হামলার শিকার হয়েছে বাহরাইনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’। সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
কুয়েতেও বড় হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো এ হামলাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওমানের দক্ষিণে সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এই হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এরই মধ্যে হামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের আকাশসীমায় কয়েক ঘণ্টায় ১০টি ড্রোন রুখে দেওয়া হয়েছে বলে আজ রোববার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে।
ইরানে নিহত বেড়ে ২,০৭৬: যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজার মানুষ। গতকাল রোববার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ২১৬ শিশুসহ মোট ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছে। ১ হাজার ৭৬৭টি শিশুসহ আহত হয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজার মানুষ। এ ছাড়া হামলায় ৩৩৬টি স্বাস্থ্য ও জরুরীসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র: গণহত্যাকারী ইসরাইলের ফাঁদে পা দিয়ে ইরানে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটাতে গিয়ে নিজ দেশে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন যুদ্ধবাজ এই নেতা। এখন তার নিজের চেয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ক্রমেই বাড়ছে বিক্ষোভ, হামলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়, প্রশাসনিক দফতরসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায়। এতে এখন পর্যন্ত দুই বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালার বিরুদ্ধে দেশটির বড় শহরগুলোতে আবারও বিশাল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ‘নো কিংস’ শিরোনামের এই বিক্ষোভ এবার তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে আগের বারগুলোতে কয়েক মিলিয়ন মানুষের সমাগম ঘটে।
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইরানে যুদ্ধ, কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন কার্যকর এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন। আয়োজকদের ভাষ্যমতে, ‘ট্রাম্প আমাদের ওপর একজন স্বৈরশাসকের মতো শাসন করতে চান। কিন্তু এটি আমেরিকা, আর ক্ষমতার মালিক জনগণ—কোনো উচ্চাভিলাষী রাজা বা তার কোটিপতি বন্ধুদের হাতে ক্ষমতা নয়।’
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই বিক্ষোভকে ‘ট্রাম্প ডের্যাঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ বলে উপহাস করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই বিক্ষোভ নিয়ে কেবল সেই সব সংবাদদাতারাই আগ্রহী যাদের এটি কভার করার জন্য পয়সা দেওয়া হয়।
গত শনিবার ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেসসহ আমেরিকার প্রায় প্রতিটি বড় শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভকারীরা লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে অবস্থান নেন এবং ন্যাশনাল মল এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তারা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের কুশপুতুল প্রদর্শন করে তাদের অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদে বিভিন্ন দেশের বৈঠক: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রশমিত করার লক্ষ্যে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে গতকাল রোববার এবং আজ সোমবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, ইরানের পানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। গত কয়েক ঘণ্টায় দফায় দফায় হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম খুজেস্তান প্রদেশের হাফতগেলও রয়েছে।
এটি দিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হামলাগুলোর একটি। এর লক্ষ্যবস্তু ছিল ১০ হাজার ঘনমিটার (১ কোটি লিটার বা ২৬ লাখ গ্যালন) ধারণক্ষমতার একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্র। এই যুদ্ধে ইরানের অনেক বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হলেও এই পানি সরবরাহ কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা হয়েছে, কিন্তু ঠিক কোন জায়গাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও এখন পাল্টা হামলার হুমকি দিচ্ছে। তারা একটি কড়া বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, এই অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন শর্ত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে এবার নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক শর্ত সামনে এনেছে ইরান। তেহরান এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। একই সঙ্গে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে দেশটি, যা থেকে বছরে কয়েক শ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই ইরান এই পথকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়েই বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান।
ট্রাম্পের প্রতি পাহলভির হুঁশিয়ারি: ইরানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন দেশটির নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। তার মতে, এই সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করা মানে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা।
রেজা পাহলভি ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহ পলাতক প্রয়াত মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির ছেলে। রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। গত শনিবার টেক্সাসে রক্ষণশীল রিপাবলিকান সংগঠন কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সের (সিপিএসি) বার্ষিক সম্মেলনে রেজা পাহলভি এ কথা বলেন। তিনি মঞ্চে উঠলে উপস্থিত জনতা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। এ সময় তিনি ইরানকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেন এবং ইরানি জনগণকে আবারও রাজপথে নামার আহ্বান জানান।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রতি দুই বছর অন্তর ইরানের হুমকির মুখোমুখি হতে চান না বলেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ মন্তব্যের সূত্র ধরে পাহলভি বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার অর্থ হবে আবারও একই বিপদ ডেকে আনা।
পাহলভি বলেন, ইরানের এই শাসনব্যবস্থা শুধু সময়ক্ষেপণ, প্রতারণা ও লুটপাটের ওপর টিকে আছে। তারা কখনো শান্তির পথে সৎ সঙ্গী হতে পারবে না। আলোচনার নাটক করবে ঠিকই, কিন্তু পরে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
৪৫ বছর পর দেশে ফেরার পথ খুঁজছেন ৬৫ বছর বয়সী পলাতক শাহর এই ছেলে। পাহলভি নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের যোগ্য নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ইরানের বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত।
ইরান–হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলে ১০০ শহরে সাইরেন: ইসরায়েলে একযোগে হামলা চালিয়েছে ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এ সময় ইসরায়েলের ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্কসংকতে বেজে উঠে। খবর আল-জাজিরার।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চালানোর সময় ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ফলে একসঙ্গে ইসরায়েলের ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্কসংকেত বেজে উঠে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হাইফা উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে। ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এ সংঘাত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে—যুদ্ধে বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
৩০ মার্চ ২০২৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur