ইরানে সামরিক হামলার প্রতিবাদে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ার বিক্ষোভে উত্তাল
ইরানে সামরিক হামলার প্রতিবাদে শনিবার নিউ ইয়র্ক সিটিসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। টাইমস স্কয়ারে আয়োজিত এক বিক্ষোভে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। শনিবার বিকেলে বিক্ষোভের শীর্ষ সময়ে প্রায় এক হাজার মানুষ জড়ো হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নানা শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই হামলা শুধু অযৌক্তিকই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের এতে জড়ানো উচিতও নয়।
আয়োজক মাইক ক্রিসেমার বলেন, সমাজের বিস্তৃত অংশ এসব ঘটনার বিরুদ্ধে—হোক তা মিনিয়াপোলিসে আইসিইর অভিযান কিংবা আজকের ইরান হামলা।
প্রতিবাদকারী বেটসি রবিনসন বলেন, একটার পর একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ না করেই যুদ্ধ?
আরেক আয়োজক কার্লা রেয়েস বলেন, ইরানের মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। অন্য দেশের বিষয়ে আমাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
আয়োজক এটান মাবুরাখ বলেন, আমি ইরানিদের জন্য প্রকৃত সহায়তা চাই, বোমা নয়।
মাবুরাখের কাছে বিষয়টি ব্যক্তিগত। তার পরিবার ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়। তিনি বলেন, শাসন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা বুঝলেও যুদ্ধ সমাধান নয়।
তিনি বলেন যখন তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা মেরে ৮৫ জন ছাত্রীকে হত্যা করে, সেটা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আনে না।
বিক্ষোভকারীরা সম্মিলিতভাবে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন এবং স্থানীয় নেতাদের অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানে শাসন পরিবর্তনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ক্রিসেমার বলেন, আপনি যদি ধরে নেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদ্দেশ্য ভালো, যা আমরা মনে করি না, তবুও তারা এসব অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবাদকারী ন্যান্সি বোলান বলেন, এর অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের ইস্যু এপস্টিন নথি, চলমান মূল্যস্ফীতি এসব থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা।
একজন বিক্ষোভকারী বলেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আরও খারাপ খবর শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
বিক্ষোভকারীরা টাইমস স্কয়ার থেকে ওয়েস্ট সাইডের দিকে মিছিল করেন, রাস্তায় নেমে যান এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন। তারা কলম্বাস সার্কেলে গিয়ে অবস্থান নেন, যাতে তাদের প্রতিবাদ স্পষ্ট বার্তা দেয় যুদ্ধের সময় তারা নীরব থাকবেন না।
বোলান বলেন, তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যত্র প্রয়োজনমতো মানুষের যত্ন নেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ সৃষ্টি করা নয়।
আয়োজকরা জানান, এটি কেবল শুরু। আগামী কয়েক দিনে নিউ ইয়র্ক সিটি এলাকায় আরও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইমা এলিস/নিউ ইয়র্ক