ইরাকে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে বাবা-ছেলেসহ তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার ইফতারের পর তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রাতে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়লে সকালে তাঁদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া প্রবাসী শ্রমিকেরা হলেন ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুরের মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে মেহেদি হাসান নাহিদ (২১), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (৪৫) ও তাঁর ছেলে মো. সাব্বির (২২)। মাহবুবুল হকও সেখানে কর্মরত আছেন।
মেহেদি হাসানের পরিবার সূত্রে জানা গেছ, মাহবুবুল হক প্রায় আট বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবরে বাবার হাত ধরে কাজের সন্ধানে সেখানে যান নাহিদ। গত মঙ্গলবার ইফতারের পর নাহিদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেদিন রাতে নাহিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক ও তাঁর ছেলে মো. সাব্বির হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে সাহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাঁদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মেহেদির চাচা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, নাহিদ খুবই নম্র-ভদ্র ছেলে ছিল। তাঁদের পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে পরিবারটি কিছুটা হলেও উপকৃত হবে।
নাহিদের মা হোসনে আরা বলেন, ‘শেষবারের মতো আমার সন্তানের মুখ দেখতে চাই। তাকে দ্রুত দেশে আনার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদের পরিবার এখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।’
ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানানো হয়নি। অবগত হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’
চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
৭ মার্চ ২০২৬