ইউটিউব দেখে টমেটো চাষ, ৪ মাসে কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার চাঁনগাছা গ্রামের পরিশ্রমী যুবক মনির হোসেন। ইউটিউব দেখে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে গত ৪ মাসে কোটি টাকার বেশি টমেটো বিক্রয় করেছেন। এখনো গাছগুলোতে ঝুলছে থোঁকায় থোঁকায় টমেটো।

প্রতিদিনই স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পাইকাররা বাগান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার আশা শীত মৌসুমেও গাছগুলো পর্যাপ্ত ফলন দিবে।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের চাঁনগাছা গ্রামের মনির হোসেন জানান, ইউটিউব দেখে টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। চলতি বছরের জুনের প্রথম দিকে গ্রামের আশপাশে ৬টি প্লটে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ শুরু করেন। জমি তৈরি করে ভারতীয় মঙ্গল রাজা ও শাহু প্রজাতির টমেটোর চারা রোপণ করেন। এরপর দুই মাস পেরুতেই গাছে আসতে শুরু করে ফুল। এক সময় থোঁকা থোঁকা টমেটোতে গাছগুলো ভরে উঠে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতিদিন গড়ে ১ টনের বেশি টমেটো দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি নিমসার বাজারে বিক্রয় করা শুরু হয়। বাজারে অনেক ক্রেতা খবর পেয়ে এখন সরাসরি বাগানে এসে টমেটো নিয়ে যাচ্ছেন।

মনির জানান, আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে টমেটোর পর্যাপ্ত ফলন নেই। তাই এটা খুবই লাভবান। তার বাগানে সর্বমোট ২৬-২৭ জন শ্রমিক কাজ করে। প্রতি বিঘায় সর্বমোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১১ লাখ টাকা। গত জুন মাসের শেষদিকে চারা রোপণের পর আগস্ট মাসের শেষদিকে ফসল তুলতে শুরু করে। প্রথম দিকে বাজার মূল্য কেজিপ্রতি দেড়শ টাকা করে পেলেও বর্তমানে একশ টাকায় কেজিপ্রতি বাজার মূল্য পাচ্ছেন।

কারণ হিসেবে তিনি জানান, শীতকালীন টমেটো বাজারে আসতে শুরু করায় মূল্য কিছুটা কমেছে।

বাগানে কথা হয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী ওমর ফারুকের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই ফসলটি গ্রীষ্মকালীন। তবে বর্তমানে গাছে যে ফলন দেখা যাচ্ছে, তাতে পুরো শীত মৌসুমেও এইসব গাছ থেকে পর্যাপ্ত ফলন পাওয়া যাবে।

এরই মাঝে মনির তার জমি থেকে প্রায় ১৫০ টনের বেশি টমেটো বাজারে বিক্রয় করেছেন দাবি করে বলেন, গাছগুলো এখন যেমন সতেজ, তেমনি টমেটোতে ঠাসা।

আরও কিছুদিন ভালো মূল্য পাবার আশা করে তিনি বলেন, শীতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত টমেটো বাজারজাত হলে দাম অনেকটা কমে যাবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. আফরিনা আক্তার ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সরেজমিন টমেটো বাগানগুলো পরিদর্শন করেছেন। আমরা কৃষি অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি মনির হোসেনকে বিপণনে প্রশিক্ষণসহ আগামীতে উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে ৫০ শতাংশ জমিতে পলিনেট হাউজের বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়াও বাজার সম্প্রসারণে নানাভাবে প্রচারণার কথাও বলেন।

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
৬ জানুয়ারি ২০২৬