সারাদেশ

‘আল্লাহ আমাগো দুঃখ বোঝছে, এহন নদীতে ইলিশ পাইতাছি’

চাঁদপুর টাইমস নিউজ ডেস্ক :

মাত্র কয়েকদিন আগেও ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের দেখা মিলছিল না। জেলে পল্লীগুলোতে বইছিল হাহাকার। ঈদে পরিবারের স্বজনদের নতুন পোশাক তো দূরের কথা, সেমাই কেনার টাকা জোগাড় হবে কিনা তা নিয়েও চিন্তায় ছিলেন জেলেরা। মহাজনের দেনা শোধ তো দূরের কথা, দু’বেলা পেট ভরে খাবারও জুটছিল না।

অবশেষে অবসান হয়েছে সব প্রতীক্ষার। গত মঙ্গলবার রাত থেকে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ।

ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে পল্লীগুলোতে ফিরেছে আনন্দ। বুধবার সকাল থেকে ভোলার বিভিন্ন মৎস্য ঘাটগুলোও জমে উঠেছে ইলিশের আশায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা মৎস্য ঘাট, দৌলতখান মৎস্য ঘাট, বোরহানউদ্দিনের হাকিউদ্দিন মৎস্য ঘাট, তজুমদ্দিনের চৌমহনী মৎস্য ঘাট, চরফ্যাশনের চর কুকরী-মুকরীসহ সব মৎস্য ঘাটগুলোতে জেলেরা দলবল নিয়ে আনন্দের সাথে নদীতে যাচ্ছে। ফিরছে নৌকা বোঝাই ইলিশ নিয়ে।

ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা মেঘনা নদীর জেলে আনোয়ার জানান, ‘ঈদের আগে ইলিশ ধরা পড়ায় আমরা অনেক খুশি। ঈদে পরিবারের সবাইকে নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতে পারমু।’

দৌলতখান মেঘনা নদীর জেলে বিল্লাল বলেন, ‘আল্লাহ আমাগো দুঃখ বোঝছে। এহন নদীতে ইলিশ পাইতাছি। মহাজনের এতো দিনের দেনা পরিশোধ করুম। ঈদে নতুন জামা কিনুম।’

চরফ্যাশন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর জেলে মিজান বলেন, ‘গত দুই দিনে নদীতে অনেক ইলিশ পাইছি। ইলিশ বেইচা এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করছি। মহাজনের কিছু টাকা দিচ্ছি। মুদি দোকানের টাকা পরিশোধ করছি। আবার এই দুই দিন মাছ ধইরা ঈদে ঘরের সবাইরে নতুন জামা, লুঙ্গি কিইনা দিমু।’

ভোলা মৎস্য অফিস কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদীগুলোতে প্রচুর মাছ এসেছে। তাই জেলেরা অনেক মাছ পাচ্ছে।

ভোলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ৮৮ হাজার ১২৮ জন জেলে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এ জেলেদের সাহায্যের জন্য সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত ৫৫ হাজার ১৫০ জন জেলে সরকারি সাহায্য পাচ্ছেন।

আপডেট :   বাংলাদেশ সময় : ১০:৪৮ অপরাহ্ন, ১ শ্রাবণ ১৪২২ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০১৫

 

চাঁদপুর টাইমস : প্রতিনিধি/এমআরআর/২০১৫

চাঁদপুর টাইমস ডট কমপ্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি

 

 

Share