Home / চাঁদপুর / আজ চাঁদপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন

আজ চাঁদপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির ত্যাগী বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিমকে নিয়োগ প্রদান করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ৩ দ্বারা জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২৭(১) মোতাবেক ব্যক্তিগণকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পার্শ্বে উল্লিখিত জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এদেকে চাঁদপুরসহ দেশের ১৪ জেলায় জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন সরকার।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ কে এম সলিম উল্যা সেলিমকে চাঁদপুর,মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরীকে নীলফামারী, এ কে এম মমিনুল হককে লালমনিরহাট, মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলামকে পাবনা, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আলেককে নড়াইল, মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লাকে বরগুনা, মোঃ সিরাজুল হককে জামালপুর, মোঃ ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদকে ঢাকা, চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীকে গাজীপুর, জামিলুর রশিদ খানকে মানিকগঞ্জ, তোফাজ্জল হোসেনকে নরসিংদী, মোঃ আফজাল হোসেন খ’ ‘পলাশকে ফরিদপুর, আহমেদ আলীকে হবিগঞ্জ, অধ্যাপক এম এ খালেককে ফেণী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

নবনিযুক্ত চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিমের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ : জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যাহ সেলিম।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ।এই দায়িত্ব আমার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। জেলাবাসী এবং দলীয় সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে, স্বচ্ছতা ও সততার সাথে জনকল্যাণে কাজ করতে আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।জেলা পরিষদের মাধ্যমে চাঁদপুরের উন্নয়নকে আরও বেগবান করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ভালোবাসা কামনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, চাঁদপুর জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যাহ সেলিম। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক এবং সভাপতি, চাঁদপুর শহর বিএনপি’র দুইবারের সাবেক সেক্রেটারি, চাঁদপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মুক্তি সৌধ নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন কমিটির বারো বছর মহাসচিব এবং তিনবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি চাঁদপুরে ‘বলাকা’ নামক প্রথম পত্রিকা প্রকাশ করেন।

এছাড়া তিনি অসংখ্য সংগঠনের সাথে জড়িত। চাঁদপুরবাসী তাকে একজন দক্ষ সংগঠক এবং আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের লড়াকু ত্যাগী ও বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর রাজনৈতিক নেতা হিসেবে চিনেন এবং জানেন। সকল মহলের কাছে রয়েছে তার পরিচিতি এবং গ্রহণ যোগ্যতা। অ্যাড.সেলিম দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সেই সঙ্গে বিগত দিনের দলটির আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক একাধিক মামলার আসামিও ছিলেন তিনি।

অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে চাঁদপুর -৩ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে দলের প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সার্থকতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। কর্মময় বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সমাজে সর্বস্তরের মানুষের সাথে উঠাবসা ছিল তাঁর।

কিন্তু কখনো কোথাও কোন কিছু হতে চাননি। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি এবার জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা।

স্টাফ করেসপন্ডেট/

১ এপ্রিল ২০২৬