Home / সারাদেশ / অন্ধকার জগত থেকে আর ফেরা হলো না তানিয়ার
Tania

অন্ধকার জগত থেকে আর ফেরা হলো না তানিয়ার

এক বছর আগে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে তানিয়া আক্তারকে দেখে প্রেমে পড়ে যান ইউসুফ খান মামুন। কয়েক মাসের প্রেমের পর ‘এতিম’ তানিয়াকে ‘বড় বোন’ রোকেয়া বেগমের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি বিয়ে করেন।

মাস ছয়েক পর তিনি বুঝতে পারেন তানিয়া ‘অন্ধকার জগতের বাসিন্দা।’ আর তাকে ‘বিপথে’ নিয়ে গেছেন কথিত বড় বোন রোকেয়া। পাশাপাশি তানিয়ার আসল পরিচয় ও আগের বিয়ের কথাও জানতে পারেন মামুন। এ অবস্থায় স্ত্রীকে ‘রক্ষা করতে’ তিনি রোকেয়াকে খুনের সিদ্ধান্ত নেন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩০ মার্চ রাত ৮টা-৯টার দিকে মামুন ও তানিয়া নগরীর খারপাড়ায় রোকেয়া বেগমের বাসায় যান। রাতের খাওয়ার পর রোকেয়া ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর মা-ছেলেকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। পরদিন (৩১ মার্চ) ভোরে বাসা থেকে বেরিয়ে তানিয়াকে কুমিল্লার তিতাসের ঘোষকান্দিতে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন মামুন। কিন্তু অন্ধকার জগৎ থেকে আর ফেরা হলো না তার।

সিলেট নগরীর খারপাড়ায় তালাবদ্ধ ঘরে মা-ছেলেকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার তানিয়া ও তার দ্বিতীয় স্বামী মামুন নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল সোমবার রাতে নগরীর উপশহরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের বিশেষ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক এ তথ্য জানান। এদিন ভোরে কুমিল্লার ঘোষকান্দি থেকে পিবিআই পরিদর্শক দেওয়ান আবুল হোসেনের নেতৃত্বে তানিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। গত রোববার রাতে নগরীর বন্দরবাজার এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে ঘোষকান্দি এলাকার বিলাল হোসেনের মেয়ে তানিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তার প্রথম স্বামী একই এলাকার এক ইতালি প্রবাসী এবং তাদের পাঁচ বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথের সাজন মিয়ার ছেলে মামুন নগরীর তালতলা এলাকায় বসবাস করেন।

তিনি আত্মীয়তার সূত্রে নগরীর একটি ট্রাভেলসে কিছুদিন চাকরি করেন বলে জানায় পিবিআই।

গত ১ এপ্রিল নগরীর খারপাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসার নিচতলার তালাবদ্ধ ঘর থেকে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সময় তানিয়াসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছিল বলে বাসা থেকে জীবিত উদ্ধার রোকেয়ার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রাইসা পুলিশকে জানায়।

তানিয়া ও মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে গতকাল রাতে রেজাউল করিম জানান, রোকেয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও নারী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বাসায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের আসর বসত। এই চক্রে রোকেয়ার ছেলে রোকনের সম্পৃক্ততার কথাও জানান তিনি।

এই ঘটনায় গত ৩ এপ্রিল নাজমুল ইসলাম নামে এক আবাসন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। নাজমুলের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এমদাদুর রহমান রাফি নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন জানান, তাকেও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

শিশু রাইসা খালার হেফাজতে :রাইসাকে তার খালা দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের ফারুক আহমদের স্ত্রী লিপি বেগমের হেফাজতে দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিউজ ডেস্ক