Home / উপজেলা সংবাদ / হাইমচর / হাইমচরে সেকায়েফ শিক্ষকদের ব্যাপক অনিয়ম

হাইমচরে সেকায়েফ শিক্ষকদের ব্যাপক অনিয়ম

বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে সেকায়েফ প্রকল্পের অধিনে গেলো বছরের মার্চ হতে হাইমচর উপজেলার বেশ কয়টি স্কুল ও মাদরাসায় এসিটি নিয়োগ দেন।

সেকায়েফ বিশ্বব্যাংক নিয়ন্ত্রিত একটি সংস্থা। এটির অধিনে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক কিছু শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তিসেবা দিয়ে আসছে।

সেকায়েফের নিয়োগ প্রাপ্ত এসব শিক্ষকরা ৬ দিনের স্থলে সপ্তাহে ৩ দিন ক্লাস, বেলা ১টার মধ্যেই বিদ্যালয় ত্যাগ ছুটিবিহীন ইচ্ছে মতো চলে যাওয়া, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সেকায়েফ কর্তৃক উপ-বৃত্তি বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানী করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব অনিয়মের কারণে সরকারের মান সম্মত শিক্ষার উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

সেকায়েফ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের দেখার কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় অনিয়ম করে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সেকায়েফ কর্তৃপক্ষ হাইমচর উপজেলার সরকারি ২টি স্কুল, চরভৈরবী উচ্চ বিদ্যালয়, চরভৈরবী দাখিল মাদরাসা ও আলগী বাজার আলিম মাদরাসাসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্কুল ও মাদরাসায় ২০১৫ সালের মার্চ মাস হতে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে এসিটি নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের অনিয়মের বিষয়ে কিছু বললে তারা বলে, এখনো ছাত্র, তাদের অন্য চাকুরি আছে, সপ্তাহে ২/৩দিন ক্লাস করবে না হয় তারা ক্লাস করাতে পারবে না।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির কিছু প্রভাবশালী সদস্যদেরকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এরা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের পরও বিল করে দিতে হয়।

এদিকে অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানের রুটিন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যেও বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব অনিয়ম দেখার কোন কর্তৃপক্ষ না থাকায় সেকায়েফ শিক্ষকগণ এসব অনিয়ম করেই যাচ্ছেন।

চাঁদপুর টাইমস প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সাংবাদিক সম্প্রতি চরভৈরবী আজিজিয়া আজহারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায় এসিটি ইংরেজি শাহিনুর আলম ও এসিটি গনিত মোঃ আরিফুল ইসলাম মাদরাসায় মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনুপস্থিত।

মাদরাসার সুপার মো. ফারুকুল ইসলামের নিকট তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যবাস্থাপনা কমিটির সভাপতির সাথে সমন্বয় করে তারা সপ্তাহে শনি-সোম ৩দিন ক্লাস করেন। গত ২৮ এপ্রিল চরভৈরবী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেকায়েফ বিজ্ঞান বিষয়ের সাইফুল ইসলাম ও গনিত বিষয়ের মো. শাহজালাল ১৮ এপ্রিল হতে বিদ্যালয়ে অনপুস্থিত।

এ সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মফিজুল ইসলাম বাবুল বিএসসি কোন সঠিক তথ্য জানাতে পারেননি।

এ ভাবে চরভাঙ্গা ডিএসএস দাখিল মাদরাসার এসিটিরাও সপ্তাহে ৩দিন ক্লাস করে।

অভিযোগ রয়েছে সপ্তাহে ৩দিন ক্লাস করে বাকি ৩দিনের বেতনের টাকা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সভাপতিগণ ভাগকরে নেন।

গন্ডামারা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসিটি ইংরেজি মোঃ শাফায়েত হোসেন ক্লাসে মোবাইলে ছাত্রীদের ছবি তোলাসহ বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তদন্ত করে দেখতেছি বলে জানান।

About The Author

বি এম ইসমাইল, হাইমচর করেসপন্ডেন্ট
: আপডেট বাংলাদেশ সময় ১১:৪৩ পিএম, ১৬ মে ২০১৬, সোমবার
ডিএইচ