Home / ফিচার / সাংবাদিকতা ও ফুলকপি : মনিরুজ্জামান বাবলু
Moniruzzaman Bablu

সাংবাদিকতা ও ফুলকপি : মনিরুজ্জামান বাবলু

এই চল; ওয়ান মিনিটে তোদের চা খাওয়াবো। বন্ধুরা মিলে পড়ন্ত বিকেলে কালীবাড়ির মোড়ে জুবরি ঘরে চা বানিয়ে খেয়ে ফেলল। বলছিলাম-আজকের প্রসিদ্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ওয়ান মিনিট এর কথা। এভাবেই প্রারম্ভিকা হয়। বাংলাদেশের কোথাও গেলে এমন সুনাম খ্যাতি অর্জনকারী ওয়ান মিনিট খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ইংরেজিতে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম।

শনিবার ভোরে অনলাইন মিডিয়ার তিন সাংবাদিক চাঁদপুরে ঘুরতে আসেন। আমিও তাদের সাথে ওয়ান মিনিটে গেলাম। একজন বলেই ফেলল ওয়ান মিনিট মনে হয় অনেক পুরনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পাশের আরেকজন শুনে বলেই ফেলল এটি প্রায় ১’শ বছর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তখন ওয়ান মিনিটের দায়িত্বরত মুরুব্বী বললেন, যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তিনি বন্ধুদের বিকেলে ওয়ান মিনিটে চা খাওয়াবে বলে আমন্ত্রণ জানায় এখানে। তারপর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের নাম হয়ে যায় ‘ওয়ান মিনিট’।

চাঁদপুর টাইমস এর মাঝেও ইংরেজি শব্দ। শুধু নামকরণের যুগের পার্থক্য রয়েছে। ওয়ান মিনিট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পেটের ক্ষুধা ও স্বাদ মিটায়। আর চাঁদপুর টাইমস চাঁদপুরবাসীর মনের তীব্র আকাঙ্খা ও খবরাখবর পৌঁছে দেয়। চাঁদপুর টাইমস ১ ডিসেম্বর পথচলার ৫ বছর পার করলো। ১৮’শ২৫ দিনে খবরাখবর আপলোড করে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক সৃষ্টি করতে পেরেছে। এই পরিসংখ্যান আগামীর পথচলা আরো নির্ভুল ও তরান্বিত করে তোলবে। চাঁদপুর টাইমসের কথা হবে মননশীল মানবতার।

২০১২ সাল থেকে অনলাইন মিডিয়াতে কাজ করে আসছি। এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি রয়েছে। দ্রুত খবর লেখা, দ্রুত খবর পাঠানো- কর্মশালায় গেলে এসব বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ২০১৯ সালে অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে প্রতিবেদনের পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ নিয়েও অফিস থেকে বকাবকি শুনতে হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রথম অনলাইন সংবাদ মাধ্যম নিয়ে আসেন প্রখ্যাত সাংবাদিক মোঃ আলমগীর হোসাইন। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি নিউজ, বাংলা নিউজের পর এখন বার্তা টোয়ান্টিফোরের এডিটর-ইন-চিফ এর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেছেন, ক্রমেই টেলিভিশন ও পত্রিকার চাহিদা কমছে। সবার হাতে এখন মুঠোফোন। তাই সবাইকে মুঠোফোন জার্নালিজম হয়ে উঠতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। আর সেই ফেসবুকে একসাথে প্রতিবেদন, ছবি, ভিডিও ও অডিও পাওয়া সম্ভব। সবাইকে হাতের মুঠোফোনেই প্রতিবেদন তৈরি ও ছবি এডিটিং এর কাজ জেনে রাখতে হবে। তা না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে, অনলাইন মিডিয়ায় কাজ করা যাবে না।

অনলাইন মিডিয়ার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। কমছে শুধু আস্থাশীল অনলাইন মিডিয়ার। কোন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সত্য ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন করছে। তা এখন পাঠকের কাছে জবাবদিহি করতে হয় অনলাইন নিউজ পোর্টালের দায়িত্বশীলদের। পাঠক ইচ্ছে করলেই সংবাদ পরিবেশনের পর পরই সংবাদ এর নিচে কমেন্ট বক্সে তুলোধনা করতে পারেন।

মেঘনার পাড়ে প্রিন্ট মিডিয়ার জয়জয়কার। সেই প্রিন্ট মিডিয়াগুলো ৭০ ভাগ নির্ভর করছে অনলাইন সংবাদের উপর। ৭/৮ টি পত্রিকা রয়েছে কোন অনলাইন থেকেই নিউজ দিয়ে শুধু পাতা ভরপুর করে দেবে। প্রতিটি উপজেলায় প্রতিটি প্রিন্ট মিডিয়ার অন্তত দুইজন করে সংবাদকর্মী রয়েছে। আবার কয়েকটি পত্রিকার পাঁচের অধিক সংবাদকর্মী রয়েছে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, কোন সংবাদকর্মী দৈনিক সংবাদ লিখে অফিসে প্রেরণ করেছেন, তার আজো কোনো পরিসংখ্যান নিতে চায়নি কর্তৃপক্ষ। মেঘনার পাড়ে প্রতিদিন যে প্রিন্ট মিডিয়াগুলো প্রকাশিত হচ্ছে, তিন-চারটি পত্রিকা ছাড়া বাকী গুলোর শিরোনাম ও ভিতরের প্রতিবেদন একই। শুধুমাত্র বার্তা প্রেরকের নামের পার্থক্য রয়েছে।

শুধু প্রিন্ট মিডিয়ার এমন চিত্র- তা কিন্তু নয়। অনলাইন মিডিয়ার আরো দৈন্যদশা। ধরে নেয়া যাক, চাঁদপুর টাইমস এ প্রকাশিত হল ‘সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত।’ তখন সময় সকাল ১১ টা। ঠিক এক ঘন্টা পর আরেকটি অনলাইনে হুবহু কপি করে একই নিউজটি আপলোড করল। চাঁদপুর টাইমস এই যে সংবাদটি আপলোড হয়েছে সেই সংবাদে প্রতিবেদক এর নাম ছিল না। কারণ যে প্রতিবেদক সংবাদটি তৈরি করেছে তিনি সিনিয়র সাংবাদিক।

আর পরবর্তীতে যে অনলাইন মিডিয়ায় হুবহু কপি করে সংবাদটি আপলোড করল, সেখানে প্রতিবেদক ‘ক’ লেখা রয়েছে। এভাবে অনলাইন মিডিয়ার অন্তরায় থেকে সুরক্ষা পেতে হবে। খুব সহজে যদি গণমাধ্যমকর্মীদের দৈন্যদশার কথা বুঝাতে হয়, তাহলে বলব শীতের মৌসুমে ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারে পাওয়া যায়। আর গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ফুলকপিটা বারোমাস পাওয়া যায়। বারোমাসের কোন খাবারের গুণগতমান ঠিক থাকে না।

এসব দৈন্যদশা থেকে বেরিয়ে এসে গণমাধ্যমকর্মী, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার দায়িত্বশীলরা ওয়ান মিনিটের মিষ্টি আর আইসক্রীমের মতো ‘প্লেবার’ তৈরি করতে হবে।

লেখক- স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, চাঁদপুর টাইমস। 01756 469505

ইন্টারনেট কানেকশন নেই